আরজি কর দুর্নীতি কাণ্ডে সন্দীপ ঘোষের বিচারে মিলল রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত ছাড়পত্র, জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর্থিক দুর্নীতি ও তছরুপের মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এবার আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা 'Sanction for Prosecution' দিল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই সরকারি নির্দেশিকার প্রতিলিপি প্রকাশ করে বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের জারি করা ১৮ মে, ২০২৬ তারিখের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্যপাল এবং কর্তৃপক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমস্ত তথ্যপ্রমাণ, এফআইআর (FIR) এবং প্রাসঙ্গিক নথি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছেন। এর ভিত্তিতেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ২১৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে প্রসিকিউট করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মূলত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act, 1988) এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (PMLA, 2002) অধীনে আদালতে বিচার চলবে। জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশিকায় সাক্ষর করেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব ডা. অমিত দাঁ।
দীর্ঘদিন ধরেই আরজি কর হাসপাতালের একাধিক টেন্ডার এবং কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ২৩ অগাস্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আখতার আলি বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই-এর অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)। সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এ সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও তিনটি বেসরকারি সংস্থার নাম উঠে আসে— মা তারা ট্রেডার্স, ঈশান ক্যাফে এবং খামা লোহা। পরবর্তীতে এই ঘটনায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক তছরুপের প্রমাণ মেলায় পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে ইডিও ইসিআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি পদে থাকা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করে বিচার শুরু করতে গেলে সরকারের এই 'Sanction' বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশিকা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর মাধ্যমে বর্তমান রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিগত দিনের সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি ও কড়া অবস্থানের বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।
এই সরকারি ছাড়পত্র মেলার ফলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সিবিআই এবং ইডি-র আইনি ফাঁস যে আরও জোরাল হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই বিষয়ে আদালতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications