দিলীপ ঘোষকে ফোন মমতার, হঠাৎ ফোনে বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
দিলীপ ঘোষকে ফোন মমতার, হঠাৎ ফোনে বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে কী বার্তা দিলেন
দিলীপ ঘোষের মোবাইলে হঠাৎ ভেসে উঠল মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের নম্বর। ফোনের ওপার থেকে মহিলা কণ্ঠ বলে উঠল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছি। দিলীপ ঘোষকে সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে ফোনে আবেদন জানান তিনি। শুধু এইটুকুই নয়, আরও কথা হল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলের সভাপতির মধ্যে।

মমতার ফোন দিলীপ-বিমান-মান্নানদের
শুধু দিলীপ ঘোষকেই নয়, একে একে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানকে। তাঁদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার আবেদন জানান। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিলীপ ঘোষের কথোপকোথন নিয়েই এদিন বেশি আগ্রহ ছিল।

মমতা-দিলীপের কী কথোপকোথন হল
সোমবার সরকারের তরফে সর্বদলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে উপস্থিত থাকার কথা বলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। দিলীপবাবুর বুধবার নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র মেদিনীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ আপনি ওই প্রোগ্রাম স্থগিত রেখে সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকুন।

মমতার অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ
মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই অনুরোধ আসার পর দিলীপ ঘোষ নিজে বলেন, তিনি মেদিনীপুর যাবেন না ওইদিনে। তিনি উপস্থিত থাকবেন সর্বদলীয় বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করেছেন, অনুরোধ করেছেন, তাই তাঁর উপেক্ষা তিনি করবেন না। সেইসঙ্গে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, আরও আগে এই বৈঠক হতে পারত।

এতদিন পর মুখ্যমন্ত্রী সর্বদলে সম্মত
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, আমরা বহুবার আবেদন জানিয়েছি সর্বদলীয় বৈঠকের। বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী যদি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বারবার, সর্বদলীয় বৈঠক করতে পারেন, তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কেন তা পারেন না। আমাদেরও তো কিছু পরামর্শ দেওয়ার থাতে পারে। আমরা একইসঙ্গে এই বিপদে লড়াই করতে চাই। এতদিন পর মুখ্যমন্ত্রী সেই ব্যাপারে সম্মত হলেন।

করোনা নিয়ে সর্বদল নবান্নে
সোমবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব ঘোষণা করেন, করোনভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে রাজ্য বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে উপস্থিত বার্তা দিয়েছেন।

বুধবার সর্বদলীয় সভা
বুধবার বিকেলে রাজ্যের সচিবালয় নবান্নে এই সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত পরিস্থিতি ছাড়াও রাজ্যের লকডাউন নিয়েও আলোচনা হবে। এই মর্মে মুখ্যসচিব সমস্ত রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানাবেন।

তিনমাস পর ফের সর্বদল
করোনা পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে মতামত বিনিময় করা হবে অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহামারী নিয়ে আলোচনা করার জন্য অনুরূপ বৈঠক ডেকেছিল। তার তিনমাস পর ফের বৈঠক ডাকা হল।

সর্বদল নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান
বিরোধীরা মনে করেন এই বৈঠক ডাকা উচিত ছিল অনেক আগে। সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সিপিএম এই বৈঠককে স্বাগত জানায়। আমাদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনেক কিছু অভিযোগ রয়েছে। আবার সদর্থক ভাবনাও রয়েছে। কেননা করোনা পরিস্থিতিতে সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও বিরোধিতা করেও সর্বদলীয় বৈঠকে যাওয়ার কথা বলেন। কেননা বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।












Click it and Unblock the Notifications