সকাল থেকেই ফোন বেজে যাচ্ছে! মধ্যরাতে লাদাখ থেকে মেদিনীপুরে পৌঁছল ছেলের মৃত্যু সংবাদ
শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারতীয় সেনার বাস। চাকা স্লিপ করে একেবারে ৬০ ফুট গভীরে নদীতে পড়ে যায় সেটি। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে একজন বাংলার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছ
শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারতীয় সেনার বাস। চাকা স্লিপ করে একেবারে ৬০ ফুট গভীরে নদীতে পড়ে যায় সেটি। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে একজন বাংলার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে ।
পারতাপুরের ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে হানিফ সাব সেক্টরের একটি ফরওয়ার্ড পজিশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল জওয়ানদের। সেই সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যাচ্ছে। লাদাখের ঘটনায় শোকের ছায়া মেদিনীপুরে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই প্রশাসনের তরফেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। গিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও।
#WesternCommand 19 soldiers injured in bus accident near #Partapur were air lifted & moved through Green Corridor in Chandigarh for treatment to #CommandHospital. Prompt surgical procedures were undertaken on critically injured & all are stable currently@adgpi @NorthernComd_IA pic.twitter.com/soRLI97AIu
— Western Command - Indian Army (@westerncomd_IA) May 28, 2022

সকাল থেকেই ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না
দুর্ঘটনায় মৃত ওই সেনা জওয়ানের নাম বাপ্পাদিত্য খুটিয়া বলে জানা যাচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহরের বারবেটিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকেই আর ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না তাঁর সঙ্গে। গভীর রাতে পরিবারের কাছে ছেলের দুর্ঘটনায় মৃতের খবর আসে। বৃহস্পতিবারই যে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হবে তা কল্পনাতেও বুঝতে পারেনি খুটিয়ার পরিবার। আর এই খবর শোনার পর থেকেই শোকে ডুবেছে গোটা এলাকা।

সেনার ল্যান্সনায়েক পদে ছিলেন
গতমাসে বাপ্পাদিত্য খুটিয়া বাড়ি এসেছিলেন। সেই সময় বাড়িতে সিয়াচেনে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় সেনার ল্যান্সনায়েক পদে ছিলেন ভারতীয় সেনার এই বীর জওয়ান। গত কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বাড়িতে ১১ মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে তাঁদের। এছাড়াও বাবা-মা এবং বাপ্পাদিত্যের ভাই রয়েছে পরিবারে। বাপ্পাদিত্যের মা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শেষ কথা হয়েছিল। ট্রেনিং শেষ হওয়ার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু এভাবে যে বাস দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যু হবে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারছেন না মেদিনীপুরের এই পরিবার।

ঘটনায় ১৯ জন সেনার চিকিৎসা চলছে
অন্যদিকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় সাতজনের সেনা জওয়ানের মৃত্যু হলেও ১৯ জন চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হয়। উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া চন্ডিগড়ের কমান্ড হাসপাতালে। এয়ার লিফট করে গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা জওয়ানদের। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলেও এক বার্তায় জানানো হয়েছে ভারতীয় সেনার তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার পরেই খোঁজ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ অমিত শাহের মন্ত্রক। ঘটনায় মৃত জওয়ানদের উদ্দেশ্যে শোকবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে রাষ্ট্রপতি।












Click it and Unblock the Notifications