বড় স্বস্তি! আপাতত ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি সুরক্ষিত, কী জানাল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ
আপাতত স্বস্তি! পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির মামলায় এবার বড় স্বস্তি পেলেন ৩১৩ জন শিক্ষক। তাঁদের চাকরি বাতিলের উপর আপাতত ১২ সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার আদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে এই একই মামলায় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গল বেঞ্চ মোট ৩১৭ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছিল। অভিযোগ, তাদের বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া আইন মেনে হয়েছিল না। দার্জিলিং পাহাড়ের GTA (Gorkhaland Territorial Administration) এই নিয়োগ করেছিল। এই নিয়েই মূলত বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
মামলার শুনানিতে উঠে এসেছিল যে, GTA-র এক বৈঠকে নেতা রোশন গিরি শিক্ষকদের নিয়মিত কাজ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। GTA দাবি করে যে, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত নিয়োগ করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি মানেনি। আদালতের মতে, একই সময়ে অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রে নিয়োগ হয়েছে, তাই 'নিয়োগ করা অসম্ভব ছিল'-এই বক্তব্যটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে আরও বলা হয় যে, নিয়মিতকরণের নামে আসলে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে, যা আইন লঙ্ঘনের সমান। GTA দাবি করেছিল যে, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলি বেসরকারি। কিন্তু আদালত জানায়, GTA আইনের ৭৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওই স্কুলগুলি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণের অধীনে। ফলে সেখানকার নিয়োগে সরকারি নিয়মগুলি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। আদালত চাকরি বাতিল করার পাশাপাশি সিআইডি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের অভিযোগ থেকে। GTA এলাকায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পরে বিচারপতি বসুর বেঞ্চ সিবিআই তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। যদিও সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। প্রথমে হাই কোর্ট সিবিআই-এর তদন্ত বহাল রাখলেও, সুপ্রিম কোর্টে গিয়েই রাজ্য স্বস্তি পায়। শীর্ষ আদালত জানায় যে, হাই কোর্ট তাড়াহুড়ো করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, আপাতত ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি সুরক্ষিত। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে এই মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেদিকেই এখন নজর।












Click it and Unblock the Notifications