কত বড় ভিআইপি! বিচারককে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আদালতে ভর্ৎসনা ফিরহাদ-মদনকে
যদি সময় মতো আদালতে না আসেন, তবে কীভাবে সময়ে আনতে হয়, তা কিন্তু আদালতের জানা আছে।
নারদ মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন ফিরহাদ হাকিম ও মদন মিত্র। বিচারক সরাসরি তাঁদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, কত বড় ভিআইপি যে, বিচারককে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার নারদ মামলায় দুই হেভিওয়েটের হাজিরা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

দেরিতে হাজিরা, ভর্ৎসনা ফিরহাদ-মদনকে
শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও ফিরহাদ হাকিম এদিন নারদা মামলায় হাজিরা দেন নগর ও দায়রা আদালতে। কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায় সঠিক সময়ে পৌঁছলেও ফিরহাদ-মদনের দেরি হয় হাজিরা দিতে। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন বিচারক। বিচারক শুভেন্দু সাহা প্রশ্ন তুলে দেন তাঁদের বিলম্বিত হাজিরা নিয়ে। বিলম্বে দেওয়ার জন্য দু-জনকেই ভর্ৎসনা করেন বিচারক শুভেন্দু সাহা।

যদি সময় মতো আদালতে না আসেন...
বিচারক শুভেন্দু সাহা বলেন, আপনারা কত বড় ভিআইপি যে, আপনাদের জন্য বিচারককে বসে থাকতে হবে? এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আদালতে ঢোকেন। ফিরহাদ হাকিম ও মদন মিত্রের দেরি হয়। বিচারককে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের জন্য। রেগে গিয়ে বিচারক বলেন, যদি সময় মতো আদালতে না আসেন, তবে কীভাবে সময়ে আনতে হয়, তা কিন্তু আদালতের জানা আছে।

বিলম্বিত প্রবেশ প্রসঙ্গে মদন-ফিরহাদ
এদিন আদালতে প্রবেশে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর পথে পিজিতে প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম ছিল। তাই দেরি হয়েছে। দেরি হওয়ার জন্য আমি নিজেই লজ্জিত। ফিরহাদ হাকিমও দেরি হওয়ার জন্য আদালতে দুঃখপ্রকাশ করেন। বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

চার মহারথীকে গ্রেফতার করে সিবিআই
২০২১ সালে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নারদ মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র ও প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেফতার করা করে নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসে সিবিআই।

নিজাম প্যালেসে হাজির হন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী
চারজনকে গ্রেফতার নিয়ে একপ্রস্ত নাটকও হয়ে যায়। দলের তিন সহকর্মী ও এক প্রাক্তন সহকর্মীকে গ্রেফতারের পরই নিজাম প্যালেসে হাজির হন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নিজাম প্যালেসের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

অনেকে তৃণমূলে, অনেকে বিজেপিতে রয়েছেন
শেষ আদালতের নির্দেশে তাঁদের প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীকালে আদালত তাঁদের সকলকেই জামিন দেয়। তারপর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ ঘটে। তিনজনকে এখনও হাজিরা দিতে হচ্ছে নারদ মামলায়। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নারদ কেস সামনে আসে। ভিডিও ফুটেজে তাঁদের টাকা নিতে দেখা যায়। এই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় অন্যদেরও। তাঁদের অনেককে তদন্তের মুখে পড়তে হয়নি, অনেকে তৃণমূলে রয়েছেন, অনেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications