দুর্গাপুজোর অনুমতি পেতে এবার ভরসা একমাত্র 'আসান'! আবেদনের পদ্ধতি ও শেষ দিন জেনে রাখুন
দুর্গাপুজো এসেই গেল। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই খুলে দিয়েছে পুজোর অনুমতির অনলাইন সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম 'আসান'। গত বছর পর্যন্ত 'আসান'-এ আবেদন না করে থানার মাধ্যমে মহকুমাশাসকের দফতরে অনলাইনে পুজোর আবেদন করা যেত।
যদিও এবার আর বিভিন্ন সরকারি দফতরে আবেদন করতে ছুটতে হবে না। 'আসান' (https://aasan.wb.gov.in/) ওয়েবসাইটে লগ-ইন করলেই সমস্ত বিভাগীয় দফতরের অনুমোদন মিলবে। তবে আবেদনের সময় হাতের কাছে রাখতে হবে সমস্ত দরকারি নথি।

এই ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে ২৯ অগাস্ট থেকে। ১৮ সেপ্টেম্বর অবধি খোলা থাকবে। ফর্ম জমার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, একবার জমা করার পর সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ মিলবে না। তাই আগেভাগে নথি ও সমস্ত তথ্য যাচাই করতে হবে আবেদনকারীদের। রয়েছে হেল্পলাইন নম্বর- 6291618440।
বিগত বছরেও যে পুজো মিটি, বারোয়ারি বা মন্দির কর্তৃপক্ষ 'আসান'-এ রেজিস্ট্রেশন করেছে সেই নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ওটিপির মাধ্যমে এবারের পোর্টালে ঢুকতে পারবেন। সেখানেই আপলোড করা হয়েছে গতবারের প্রশাসনিক অনুমতির শংসাপত্র, এমনকী সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির বিস্তারিত বিবরণ। মনে রাখতে হবে, এবার থেকে কোনও পুজোকে অফলাইনে বা হার্ড কপি জমা দেওয়ার মাধ্যমে অনুমতি প্রদান করা হবে। আবেদন করতে হবে 'আসান' পোর্টালেই।
অনেক ক্লাব, পুজো কমিটি দুর্গাপুজোর জন্য রাজ্য সরকারের অনুদান পায়। অনেকেই আবার অনুদান না পেলেও পুজোর জন্য বিদ্যুৎ, দমকল, পুলিশ, পরিবেশ দফতর হয়ে মহকুমাশাসকের দফতর থেকে পুজোর অনুমতি নিয়ে থাকে। তবে এবার আর সেই দফতরগুলিতে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।
নতুন যারা রেজিস্ট্রেশন করাতে চাইবে সেখানে পুজো কমিটির নাম ও একজন কারও ফোন নম্বর দিয়েই ওটিপির মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এরপর এক এক করে বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। গতবার যারা পুজোর অনুমোদন পায়নি তারা তার আগের অর্থাৎ ২০২৩ সালের পুজোর অনুমোদনের সার্টিফিকেট আপলোড করতে পারবে। নচেৎ সিলেক্ট করতে হবে গতবার অনুমোদন নেওয়া হয়নি বা অনুমোদন পাইনি উল্লিখিত জায়গাটি।
যে বিষয়গুলি উল্লেখ করতে হবে তা হলো বিগত বছরের পুজোর অনুমতি, মণ্ডপ বা মন্দিরের সাইট প্ল্যান, পুজোর জমির নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলে), পুজো কমিটির সম্পূর্ণ বিবরণ, নিরাপত্তাজনিত ঘোষণাপত্র (ইলেকট্রিসিয়ানের ফিট সার্টিফিকেট), বাজেট, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুমতি, ডেকরেটরের ঘোষণাপত্র, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা।
এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিসিয়ান ও ডেকরেটরের ট্রেড লাইসেন্সের নথি, স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প লাগবে। তাঁদের জন্যও নির্দিষ্ট ঘোষণাপত্র ডাউনলোড করিয়ে তাঁদের সই ও সিল নিতে হবে। পুজো যেখানে হচ্ছে সেখানকার জমির বিবরণ দিতে হবে। যদি অন্যের জমিতে পুজো হয় তাহলে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে জমির মালিকের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট লাগবে। সরকারি জমি হলে তা উল্লেখ করা হলে ব্লকের ভূমি দফতরের আধিকারিকরা অনুমোদন দেবেন।
যদি ইতিমধ্যেই কোনও পুজো কমিটি বিদ্যুৎ দফতর থেকে কোটেশন নিয়ে টাকা জমা দিয়ে থাকেন তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু এই পোর্টাল থেকেও কোটেশন অনুযায়ী টাকা মিটিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের ছাড়পত্র মিলবে। অনলাইনে ফর্ম ভরার সময়ই সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর নামে পরিবেশ দফতরের একটি ফর্ম আসবে। সেটি ডাউনলোড করে সই ও স্ট্যাম্প মেরে তা স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। বিসর্জনের গতবার ও এবারের রুট সংক্রান্তও তথ্য দিতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। আবেদন জমা করার পর একটি নম্বর দেওয়া হবে। সেই নম্বর দিয়েই আবেদনের স্টেটাস দেখা যাবে।
মণ্ডপ বা মন্দিরের সাইট প্ল্যান (কতটা জায়গাজুড়ে, কতটা উঁচু মণ্ডপ হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য দিয়ে), পুজো কমিটির সম্পূর্ণ বিবরণ, বাজেট, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকার কোনও নির্দিষ্ট ফর্ম নেই। ক্লাবের, বারোয়ারি বা মন্দির কমিটির প্যাডে তা উল্লেখ করে জমা দিতে হবে। যদি কোনও বিভাগে অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হয় তাহলে এই ওয়েবসাইটেই তা উল্লিখিত থাকবে। যারা নিজস্ব জমিতে পুজো করে বাংলার ভূমি থেকে তাদের জমির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত কাগজ আপলোড করা যাবে।












Click it and Unblock the Notifications