আরএসএসের আদর্শে বেড়ে ওঠা! আড়ালে থেকেও বিজেপি এগিয়ে দেওয়ার পুরস্কার সুভাষ সরকারকে দিলেন মোদী

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! আর সেই তালিকাতে আশ্চর্যজনক উত্থান সুভাষ সরকারের। গত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া থেকে প্রার্থী হন পেশায় এই ডাক্তারবাবু। দুপাশে দুই হে

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! আর সেই তালিকাতে আশ্চর্যজনক উত্থান সুভাষ সরকারের। গত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া থেকে প্রার্থী হন পেশায় এই ডাক্তারবাবু। দুপাশে দুই হেভিওয়েট অর্থাৎ তৃণমূলের সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএমের অমিয় পাত্রকে হারিয়ে সুভাষ সরকারের উত্থান লালমাটিতে।

এরপর ধীরে ধীরে বাঁকুড়া জঙ্গলমহলে বিজেপির মাটি শক্ত করতে কাজ চালিয়ে যান সুভাষ সরকার। কখনও ডাক্তারবাবু হিসাবে বাঁকুড়ার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা করেছেন তো আবার কখনও রাস্তার ধারে বসে মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শুনেছেন।

সমাধান করারও চেষ্টা করেছেন। আর তাই খুব অল্প সময়ে বাঁকুড়ার মানুষের কাছের হয়ে ওঠেন ডাক্তার সুভাষ সরকার।

স্বাধীনতার পর প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পেল বাঁকুড়া

স্বাধীনতার পর প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পেল বাঁকুড়া

স্বাধীনতার পর থেকে বাঁকুড়া সবসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। বাসুদেব আচারিয়া দীর্ঘদিন সাংসদ ছিলেন। কিন্তু রাজ্যজুড়ে প্রবল সবুজ ঝড়ে মুনমুন সেনের কাছে হারতে হয় বর্ষীয়ান সাংসদকে। যদিও পরবর্তীকালে সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ, প্রতিশ্রুতি না রাখা জঙ্গলমহলে জোর ধাক্কা খায় তৃণমূল। ২০১৯ সালে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে ওই কেন্দ্র থেকে লড়াই করলেও জিততে পারেনি। তাঁকে এবং অমিয় পাত্রকে হারিয়ে বাঁকুড়া লোকসভা জিতে নেন সুভাষ সরকার। স্বাধীনতার পর কার্যত বাঁকুড়ার মাটিতে প্রথম জয় পায় বিজেপি। আর এরপর থেকে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন সুভাষবাবু । তবে সুভাষ সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হওয়ার খবরে খুশি বাঁকুড়ার মানুষ।

২০১৯ লোকসভা ভোটের নিরিখে ফলাফল

২০১৯ লোকসভা ভোটের নিরিখে ফলাফল

প্রসঙ্গত বাঁকুড়ার দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২ টি বিধানসভা আসন রয়েছে। আর এই দুটি আসনেই ২০১৯ লোকসভা নির্বাতনে বিজেপির তরফে জেতেন সৌমিত্র খাঁ ও সুভাষ সরকার। এককালে বামেদের পোক্ত দখলে থাকা বাঁকুড়ায় ইতিহাস গড়েন দলের দুই নেতা। বিজেপির সুভাষ সরকার ভোট পান ১১২০৮০টি, তৃণমূল কংগ্রেসের সুব্রত মুখোপাধ্যায় পান ৬৫৩০৪টি ভোট। ১৫ হাজারের কিছুটা বেশি ভোট পেয়ে খুশি থাকতে হয় অমিয় পাত্রকে।

আরএসএস থেকে উত্থান

আরএসএস থেকে উত্থান

দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস করে আসা নেতা সুভাষ সরকার। তবে সেভাবে কখনও ফ্রন্টফুটে আসেননি। পিছনে থেকে একাধিক বিষয়ে লড়াই চালিয়ে যান সুভাষ সরকার। বিজেপি-র রাজ্য সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন সুভাষ সরকার। একাধিকবার জল্পনা তৈরি হলেও তেমনটা হয়ে ওঠেনি। এমনকি রাজ্য সভাপতি পদেও একটা সময়ে সুভাষ সরকার এগিয়ে থাকেন। কিন্তু শেষ পরজন্তব দিলীপ ঘোষের সঙে দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন সুভাষ সরকার। দলের মধ্যে একাধিক রাজনীতির স্বীকার ইহতে হয়েছে সুভাষ সরকারকে। কিন্তু কখনও প্রতিবাদ জানানি। এমনকি সাংসদ হওয়ার পরেও জঙ্গলমহলে বিজেপিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছেন। একেবারে নিঃশব্দে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। যার ফল বিধানসভায় পেয়েছে বিজেপি।

বাঁকুড়াতে তুলনামূলক ভাবে ভালো ফল

বাঁকুড়াতে তুলনামূলক ভাবে ভালো ফল

গোটা রাজ্যে বিজেপি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিন্তু বাঁকুড়াতে বিজেপি তুলনামূলক ভাবে ভালো ফল পেয়েছে। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছাতনা, শালতোড়া, বাঁকুড়া ও রঘুনাথপুরে জিতেছে বিজেপি। আর এরপরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসেন এই সাংসদ। সবদিক থেকে খতিয়ে দেখার পরেই তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতে আনা হল সুভাষ সরকারকে। রাজনৈতিকমহলের মতে, কার্যত বিধানসভা ভোটে যেভাবে তাঁর কেন্দ্রে বিজেপিকে লিড দিয়েছেন সাংসদ তাঁর পুরস্কার হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+