সিপিএমে অস্তমিত সূর্য! নিশ্চিত পরিবর্তনে বিকল্প মুখ হিসেবে দৌড়ে কারা, জল্পনা তুঙ্গে
সিপিএমে অস্তমিত সূর্য! নিশ্চিত পরিবর্তনে বিকল্প মুখ হিসেবে দৌড়ে কারা, জল্পনা তুঙ্গে
সিপিএমে শেষ হচ্ছে সূর্য-জমানা। এবার নেতৃত্বে নতুন নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বড়সড় কোনও অঘটনা না ঘটতে আসন্ন ফেব্রুয়ারিতেই রাজ্য সম্মেলনে দলের রাজ্য সম্পাদক পদে বদল অবশ্যম্ভাবী। সূর্যকান্ত মিশ্রের বদলি হিসেবে কে এগিয়ে রয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী খোদ সূর্যকান্ত মিশ্র
রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে সূর্যকান্ত মিশ্রের বিকল্প নাম নিয়ে। পরবর্তী রাজ্য সম্পাদক পদে দুটি নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। একটা নাম হল মহম্মদ সেলিম আর দ্বিতীয় নাম হল শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। পরপর কয়েকটি নির্বাচনে দলের বিপর্যয় হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী খোদ সূর্যকান্ত মিশ্রই।

সিপিএমও নতুন করে শুরু করতে নতুন নেতৃত্বের পথে
সিপিএমও চাইছে ফের নতুন করে শুরু করতে। নতুন কাউকে দায়িত্বে আনলে যদি জেগে ওঠে সিপিএম। সিপিএম সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। খড়দহ উপনির্বাচনে বিজেপিকে সরিয়ে প্রথম ১০ রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়েছিল সিপিএম। তারপর বিজেপি সিপিএমকে টপকে যায়। শেষপর্যন্ত বিজেপি দ্বিতীয় হয়। প্রায় সমান সমান ভোট পায় সিপিএম ও বিজেপি।

নিজেকে অব্যাহতি দিয়ে চাইছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখকে
সিপিএম এবার পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে বয়স-নীতি মেনে। সূর্যকান্ত মিশ্র সেই নিয়ম মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে চলেচেন। নিজেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখকে বেছে নিচ্ছেন দলকে নেতৃত্বে দিতে। রাজ্য সংগঠনের হাল যোগ্যতম নেতার উপর তুলে দিতে বদ্ধপরিকর সিপিএম।

সূর্যকান্ত মিশ্রের জায়গায় মহম্মদ সেলিমের নাম আলোচনায়
সিপিএমের বাংলার মতো বড় রাজ্যে সম্পাদক পদে এমন একজনকে বসানো হয়েছে বরাবর যিনি পলিটব্যুরোর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্যও বটে। দলের একাংশ সেই নিরিখে সূর্যকান্ত মিশ্রের জায়গায় মহম্মদ সেলিমের নাম বিবেচনা করছে। তিনি যেমন পলিটব্যুরোর সদস্য আবার সিনিয়র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও। তারপর প্রাক্তনমন্ত্রী, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ। সংসদীয় ও পরিষদীয় অভিজ্ঞতাও তাঁর পরিপূর্ণ।

ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে সেলিমের পাল্লাই ভারী সিপিএমে
সেলিমের কদর রয়েছে সুবক্তা হিসেবেও। সেলিম ওই দায়িত্ব পেলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক পদে তিনিই হবেন সংখ্যালঘু মুখ। ফলে এটিও একটি কারণ সূর্যকান্ত মিশ্রের পক্ষে। তবে সেই পথে কাঁটাও রয়েছে। কারণ সেলিমের উদ্যোগে আইএসএফের সঙ্গে জোট করে আদতে কোনও লাভ হয়নি সিপিএমের। তবু ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে সেলিমের পাল্লাই ভারী সিপিএমে।

শ্রীদীপের মতো অচেনা মুখকে সামনে এনে পরীক্ষা সিপিএমে!
এই দৌড়ে সেলিম এগিয়ে থাকলেও শ্রীদীপ ভট্টাচার্য খুব একটা পিছিয়ে নেই। সেলিমের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রীদীপের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। শ্রীদীপবাবুও সুবক্তা, পার্টি ক্লাস ও পাঠচক্রে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা নেন বরাবর। তবে তিনি সংগঠনটাই করেছেন। তার বাইরে সে অর্থে পরিচিতি নেই। তাঁর মতো অচেনা মুখকে সামনে এনে সিপিএম একটা পরীক্ষা করতেই পারে। তবে শেষ কথা বলবেন সেই বিমান বসু ও সূর্যকান্ত মিশ্ররাই।












Click it and Unblock the Notifications