জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রী ও মেয়েকে ৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিলেন বাকিবুর? জেল হেফাজতে পাঠালো আদালত
আর ইডি হেফাজত নয়। এবার জেল হেফাজতে গেলেন বাকিবুর রহমান। রেশন বণ্টন দুর্নীতিতে অন্যতম বড় অভিযুক্ত এই বাকিবুর রহমান। রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও জোর দিলেন ইডির আইনজীবী। এই মুহূর্তে বাকিবুর যেন কোনওভাবেই জামিন না পান। এই কথাও ইডির তরফে বলা হয়েছে আদালতে।
শনিবার দুপুরে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়েছিল বাকিবুর রহমানকে। তার তরফে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ইডির তরফে এই জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। দাবি করা হয়, একাধিক নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে এই কয়েকদিনের তদন্তে। এই মুহূর্তে বাকিবুর রহমান জামিন পেলে তদন্ত বাধাপ্রাপ্ত হবে।

গভীর তদন্তের প্রয়োজন। এই দুর্নীতির শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে রেশন বন্টন দুর্নীতি এক বড়সড় ঘটনা। আদালতে এই কথা জোরের সঙ্গে জানিয়েছেন ইডির আইনজীবী। নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে তদন্তে।
চাল বণ্টনের ক্ষেত্রে ধান কিনে ভুয়ো কৃষকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হত। নিজের আত্মীয় পরিজন এবং ঘনিষ্ঠদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতেন এই বাকিবুর। কোটি কোটি সরকারি টাকা সরিয়েছেন এই ব্যক্তিই। এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলো সবকটাই বাকিবুর রহমান নিজে নিয়ন্ত্রণ করতেন। চাঞ্চল্যকর এই কথা আদালতে এদিন জানানো হয়েছে।
এছাড়াও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে বাকিবুর রহমানের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে আদালতে। জানা গিয়েছে, বাকিবুর রহমান মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। কোনও গ্যারান্টি ছাড়া নয় কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে। ঋণ বাবদ ৯ কোটি টাকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও মেয়েকে দিয়েছিলেন বাকিবুর রহমান।
কেন মন্ত্রীর পরিবারকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল? এত মোটা টাকা ঋণ নেওয়ার কী দরকার ছিল? কোনও গ্যারান্টি ছাড়া বাকিবুর রহমানই বা কেন অত মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ দিয়েছিলেন? সেইসব একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। এই মোটা টাকা ঋণের পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে। এমনই মনে করছেন ইডির আধিকারিকরা।
সব কিছু শুনে বাকিবুর রহমানকে জেল হেফাজতে পাঠানোর কথা জানান বিচারক। বাকিবুর রহমানকে আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারক।












Click it and Unblock the Notifications