মহুয়া বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন! থানায় অভিযোগ দায়ের মতুয়াদের, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিড়ম্বনায় ফেলল কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বক্তব্য। তাঁর বক্তব্যে যারপরনাই ক্ষুব্ধ মতুয়া সম্প্রদায়। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।
মমতাবালা ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ চাপ বাড়াচ্ছে মহুয়ার উপর। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ।

সম্প্রতি একটি সভা থেকে মহুয়ার বক্তব্য মতুয়া সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ক্লিপে মহুয়াকে মতুয়াদের কটাক্ষ করে বলতে শোনা যায়, সারা বছর তৃণমূলী, আর ভোটের সময় সনাতনী। এগুলো কী অঙ্ক ভাই? আমরা হাজার টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলে, তফসিলি মহিলারা ১২০০ টাকা পান। অথচ এই বুথগুলিতে ১০০টা ভোট গুনলে ৮৫টা বিজেপি, ১৫টা অন্য় পার্টি পায়। কাজের সময় মমতা, রাস্তার সময় মমতা। কাঠের মালা পরে সবাই চলে আসেন ভাতা নিতে তখন কী হয়? বাস্তব কথা বলছি আমি, শুনতে খারাপ লাগে। এতেই তৃণমূলের মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মতুয়া, নমঃশূদ্রদের নিয়ে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে মধ্যে মতুয়াদের মধ্যে। আজ বনগাঁ শহরে প্রতিবাদ মিছিল করে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় অভিযোগ জানাল মমতা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের লিগ্যাল সেল। তাদের দাবি, মহুয়া মৈত্র যে মন্তব্য করেছেন তাতে মতুয়াদের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। কিন্তু এখনও তিনি ক্ষমা চাননি। বনগাঁ-সহ নদিয়া জেলার একাধিক থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নিলে আমরা আদালতে যাব। মহুয়া মৈত্রকে আদালতে এসে জবাব দিতে হবে।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের লিগ্যাল সেলের চেয়ারম্যান মুকুল বিশ্বাস বলেন, বারবার মহুয়ার নানা মন্তব্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মহুয়া মৈত্র রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দামি দামি উপহার নেন। কে বলতে পারে তিনি বিজেপির থেকে উপঢৌকন নেননি? মতুয়াদের ১০০ শতাংশ ভোট তো বিজেপি পায় না। কিন্তু মহুয়া মৈত্র যে মন্তব্য করেছেন তাতে যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেন তাঁরাও বিধানসভা ভোটে আর তৃণমূলকে ভোট দেবেন কিনা তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন। ওঁকে ক্ষমা চাইতেই হবে। না হলে বিধানসভা নির্বাচনে আগে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য মতুয়া ভোটে প্রভাব ফেলবে। বিজেপি বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাবে। ওঁকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। উনি ক্ষমা চাননি। পুলিশ-প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা হাইকোর্টে যাব।
আজ বনগাঁয় প্রতিবাদ মিছিল ও সভার ফাঁকে আইনজীবী জ্যোতির্ময় নাথ বলেন, মহুয়া মৈত্রের নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করছি আমি। উনি বারেবারে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়ে নানা কথা বলেন। প্রয়োজনে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করবে। মতুয়ারা সাংসদের বাড়ি, অফিসও ঘেরাও করবে।












Click it and Unblock the Notifications