পূর্ব মেদিনীপুরে কি আণুবীক্ষণিক দল হবে সিপিএম, জল্পনা তুঙ্গে

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় লক্ষ্মণ শেঠ একদা মুকুটহীন সম্রাট ছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে এখানে বিধানসভা ভোটে সিপিএমের ভরাডুবি হওয়ার পর রাজ্য নেতৃত্ব তাঁকে কাঠগড়ায় তোলে। এর জেরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে লক্ষ্মণবাবুর। কিছুদিন আগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি পাল্টা একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেন, ভারত নির্মাণ মঞ্চ। আর লক্ষ্মণ শেঠের দলে ভিড়তে চেয়ে এ বার সিপিএম ছেড়ে দিলেন ২১ জন হেভিওয়েট। আগামী ১ অগস্ট কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে ভারত নির্মাণ মঞ্চ।
সিপিএম রাজ্য কমিটির নেতা রবীন দেব বলেন, "পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আমাদের সদস্য সংখ্যা ১৭ হাজার। সেখানে ২১ জনকে নিয়ে অত চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় আমাদের ভোট বেড়েছে।"
কিন্তু রবীনবাবুর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দু'টি আশঙ্কা ধরা পড়ছে। প্রথমত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএমে বরাবরই দু'টি গোষ্ঠীর লড়াই চলেছে। লক্ষ্মণ শেঠ-তমালিকা পণ্ডা শেঠ গোষ্ঠী বনাম প্রশান্ত প্রধান-নিরঞ্জন সিহি গোষ্ঠী। লক্ষ্মণবাবুদের গোষ্ঠীই বরাবর দাপট দেখিয়ে এসেছে। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, ২১ জন নেতা দল ছাড়লেও তাঁর পিছনে যে বিপুল সংখ্যক অনুগামীরা রয়েছেন, তাঁদের কথাও ভাবা উচিত রবীন দেবের। দ্বিতীয়ত, লোকসভা ভোটের সময় তমালিকা পণ্ডা শেঠ, অশোক গুড়িয়া, অমিয় শাহু, সুদর্শন মান্নারা দল ছাড়েননি। ফলে সংগঠনের রাশ তাঁদের হাতে ছিল। আর ভোট বেড়েছিল। অর্থাৎ রবীন দেব হয় এগুলি বিশ্লেষণ করেননি অথবা সব জেনেশুনেও প্রকাশ্যে 'আত্মবিশ্বাসী' হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তমালিকা পণ্ডা শেঠ বলেন, "সিপিএম ছাড়ার সিদ্ধান্ত খুবই বেদনাদায়ক। কিন্তু মানুষের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হল। দলে কোনও গণতন্ত্র নেই। কিছু লোক যাঁদের মাটির সঙ্গে যোগ নেই, তাঁরাই একতরফাভাবে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।"












Click it and Unblock the Notifications