অধীরের নিশানায় 'বিজেপির ট্রোজান হর্স' মমতা, বিরোধী নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি
ভবানীপুরের ভোটের আগের দিন বিস্ফোরক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এদিন তিনি একদিকে যেমন ভবানীপুরের সব মানুষ আদৌ ভোট দিতে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপির ট্রে
ভবানীপুরের ভোটের আগের দিন বিস্ফোরক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এদিন তিনি একদিকে যেমন ভবানীপুরের সব মানুষ আদৌ ভোট দিতে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপির ট্রোজান হর্স বলেও কটাক্ষ করেছেন।

ভবানীপুরে আদৌ সবাই কি ভোট দিতে পারবেন
ভবানীপুরে সবাই ভোট দিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ভোটের আগের দিন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এলাকায় যাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে, তাঁদের বাড়ি থেকে বেরনোর রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার দিদিকে সেখান থাকে জেতাতে সবরকমের ব্যবস্থা তৃণমূল করবে, মনে করেন অধীর চৌধুরী। সামশেরগঞ্জে ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিজেপি কথাতেই এগিয়ে
এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি উত্তরাখণ্ডে চিনের আগ্রাসনের অভিযোগ করে জানান, সেখানে যে হামলা হতে পারে, তা আগে থেকেই খবর ছিল। তা সত্ত্বেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। বিপরীত দিকে চিন অনেক দিন আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিজেপি সরকার কথাতেই এগিয়ে। অধীর চৌধুরী আরও বলেন, লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও বাধা দিয়েছে চিনের সেনা। লে থেকে লাদাখ স্থানীয়রা এখন ভেড়া চড়াতে যেতেও বাধা পান বলে অভিযোগ করেছেন অধীর। কেননা চিন সেখানকার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে।

দিদির লন্ডনে জল বেরনোর ব্যবস্থা নেই
এদিন অধীর চৌধুরী কলকাতায় জমা জল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, একটা সময় দিদি বলেছিলেন কলকাতাকে লন্ডন বানাবেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে লন্ডন থেকে জল বেরনোর ব্যবস্থা নেই। লন্ডনে ডেঙ্গু বাড়ছে, ঘরবাড়ি ভাঙছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কলকাতা নামক লন্ডন যাঁরা পরিচালনা করে, তাঁদের কাজই হল টাকা খাওয়া, বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া।

বিজেপির ট্রোজান হর্স মমতা
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা গিয়েছে অধীর চৌধুরীকে। তিনি বলেছেন বিজেপির ট্রোজান হর্স হলেন মমতা। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে বিরোধীদের সবরকমমের জোট থেকে দূরে রাখতে বলেও সতর্ক করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিত্র হলেও বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন না। কংগ্রেসকে বলিদান দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের দলকে বাড়াতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যিনিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য করেছেন, তাঁকে শেষ করেছেন। এহেন ব্যক্তিকে কখনই বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত কয়েকদিনের মতোই এদিনও অধীর চৌধুরী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপিকে খুশি করতে চান। কেননা পরিবার এবং দলকে বাঁচাতে এছাড়া তাঁর কাছে আর কোনও উপায় নেই। সিবিআই ও ইডির থেকে বাঁচতে তিনি বিজেপিকে কংগ্রেস মুক্ত ভারত তৈরি করতে সাহায্য করছেন। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ক্ষতি করার পরে এবার সর্বভারতীয় পর্যায়ে একই পথে যাচ্ছেন। অধীর চৌধুরী এই মন্তব্য এমন একটা দিনে করলেন, যেদিন কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের সাতবারের বিধায়ক লুইজিনো ফেলেইরো।

কংগ্রেস থাকতে কখনই মমতা বিরোধীদের নেতৃত্বে নয়
এদিন অধীর চৌধুরী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি। অধীর চৌধুরী বলেন, যতদিন কংগ্রেস থাকবে, ততদিন মমতা কখনই বিরোধী ফ্রন্টের নেতা হতে পারবেন না, এটা ভাল করেই জানেন মমতা। সেই কারণে তিনি কংগ্রেসের ইমেজ খারাপ করতে চাইছেন। কংগ্রেস ছাড়া সারা দেশে বিজেপি বিরোধী ফ্রন্ট তৈরি করা সম্ভাব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
দিন দুয়েক আগে অধীর চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক প্রতারর ভণ্ড বলে আক্রমণ করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদ তুলে ধরে দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আরএসএস-এর সম্পর্ক বেশ পুরনো। একদিকে আরএসএস যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্গা বলে সম্বোধন করেছিলেন, অন্যদিকে, আরএসএসকে দেশপ্রেমী এবং তাদের নেতাদের সম্মান করার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ তথা বাংলার মুসলিমদের ধোঁকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।












Click it and Unblock the Notifications