কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বর প্রসঙ্গে মেজাজ হারালেন অভিষেক, বিঁধলেন ইডি-বিজেপিকে, 'জেঠু'কে চান শমীক
Abhishek On Kalighater Kaku: সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত ফরেন্সিক রিপোর্ট এলো ইডির হাতে। এ প্রসঙ্গেই মেজাজ হারালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ কালনায় বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের বাছাই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিষেক। সেখান থেকে বেরিয়েই কালীঘাটের কাকুর ভয়েস স্যাম্পল সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

মুখবন্ধ খামে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি থেকে কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের রিপোর্ট ইডির কাছে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে ইডি কিছু না জানালেও সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে যে কল রেকর্ডিং রয়েছে, তার সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের নমুনা কণ্ঠস্বর সংক্রান্ত ইতিবাচক রিপোর্টই এসেছে। তবে যতক্ষণ না বিষয়টি আদালতে ইডি জানাচ্ছে ততক্ষণ কিছুই সরকারিভাবে জানতে পারার অবকাশ নেই।
অভিষেককে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইডি আদালাতে জানাবে, জানাক। তবে ভয়েস ক্লিপিং যাঁর সঙ্গে কথোপকথনের তাঁকে কি অ্যারেস্ট করেছে? অভিষেককে সাংবাদিক পাল্টা বলেন, কার সঙ্গে কথোপকথন? অভিষেকের উত্তর, সেটা ইডিই বলতে পারবে। আমি তো ইডিতে চাকরি করি না।
এখানেই না থেমে অভিষেক বলেন, আপনার চ্য়ানেলের ইন্টারেস্ট বুঝতে পারছি। যখন কাউকে টাকা নিতে দেখা যায় তাকে ইডি বা সিবিআই কেন ডাকে না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন? আমি তো হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে লড়ছি। ইডিকে জানতে চেয়েছেন, তাদের এএসজি সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা। সেই সৎ সাহস আছে?
অভিষেক আরও বলেন, আমাকে প্রশ্ন করছেন করুন। আরও ১০টা প্রশ্ন করুন, ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে উত্তরও দেব। আপনারা সাংবাদিক বলে দাবি করলেও বেছে বেছে প্রশ্ন করেন। কিন্তু যেখানে যাঁকে যে প্রশ্ন করার দরকার সেটা করেন না। এরপরই বিজেপিকে তীব্র নিশানা করেন অভিষেক।
আদালতে ইডি দাবি করেছে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল জামিন পেতে বেশি করে আম, মিষ্টি খাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল জেলে বসে আম খাচ্ছেন,বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তো বাড়ি বসে আম খাচ্ছেন। আবগারি দুর্নীতির ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৫৫ কোটি তো নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপির কাছে গিয়েছে।
ফলে কেন জেপি নাড্ডাকে গ্রেফতার করা হবে না? সেই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী বলছেন নির্বাচনী বন্ড করা হয়েছিল যাতে কে কাকে টাকা দিচ্ছে সেটা জানা যায়। কিন্তু তা তো চেক, আরটিজিএস, এনইএফটির মাধ্যমেই দেওয়া যেত। ইলেক্টরাল বন্ডের কোন দরকার ছিল?
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কালীঘাটের কাকুর ভয়েস স্যাম্পল মিলবে, এটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে এর উপর নির্ভর করে এরপর হরিপালের কাকুকে ধরলে আর সেটা মানুষ নেবে না। কার সঙ্গে কথোপকথনের জন্য ইডির এই প্রচেষ্টা, তদন্ত? তিনি কবে ধরা পড়বেন? এরপর কে নোটিশ পাবেন, কাকে ডেকে আনা হবে?
শমীকের কথায়, তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় মানুষ ক্লান্ত, হতাশ, বিরক্ত। তবুও তাঁরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর আস্থা রাখছেন যে, প্রকৃত সত্য তারাই উদ্ঘাটন করতে পারবে। আদালতের উপরও ভরসা আছে। কিন্তু তদন্তের গতিটা তো এবার বাড়ান। আর কাকু নয়, এবার জেঠুকে নিয়ে আসুন।
এদিকে, অভিষেক এদিন দাবি করেন, বর্ধমান পূর্বের সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রেই তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। বিগত লোকসভা নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে জিতবে। সূত্রের খবর, বৈঠকে মেমারি, জামালপুর, রায়না বিধানসভায় গোষ্ঠীকোন্দল বন্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। বিধায়কদের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কালনা পুরসভার কাজকর্মেও খুশি নন অভিষেক। চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন জনসংযোগ বাড়াতে।












Click it and Unblock the Notifications