নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গোপন জবানবন্দি দিতে চায় ৩ জন, রাজসাক্ষী হওয়ার পথে কি তাপসও?
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার গোপন জবানবন্দি দেওয়ার হিড়িক। প্রথম এক জন অভিযুক্ত গোপন জবানবন্দী দিতে চাইলেও পরে আদালতে আজ ধৃতদের আইনজীবী জানিয়েছে তিনজন গোপন জবানবন্দি দিতে চান। সেই তালিকায় রয়েছেন, শাহি ইমাম, আলি ইমাম এবং কৌশিক ঘোষ। তাপস মণ্ডলদের সঙ্গে আজ এঁদেরও আদালতে পেশ করা হয়েছিল। যাঁরা গোপন জবানবন্দি দিতে চান তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তাপস, কুন্তল এবং নীলাদ্রিকে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিচারক।

গোপন জবানবন্দি দিতে চান ৩ অভিযুক্ত
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গোপন জবানবন্দি দিতে চান তিন অভিযুক্ত। সোমবার আদালতে এমনই এমনই জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী। যাঁরা গোপন জবানবন্দি দিতে চান তাঁদের মধ্যে রয়েছে শাহি ইমাম, আলি ইমাম এবং কৌশিক ঘোষ। এরা চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তুলত। শাহিদ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আর কৌশিক ঘোষ ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা সিবিআইকে গোপন জবানবন্দি দিতে চান বলে জানিয়েছে আদালতে। আজ আদালত তাঁদের জেল হেফাজতের নির্জেশ দিয়েছে।

সিবিআই হেফাজতে তাপস-কুন্তল
গতকাল গ্রেফতার করা হয় তাপস মণ্ডলকে। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে পেশ করার আগে নিজাম প্যালেস থেকে বেরোনোর সময় তাপস মণ্ডল দাবি করেন অভিযোগ করেছিলেন তাই তাঁকে অভিযুক্ত হতে হল। কুন্তলের কাছ থেকে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। কুন্তলকে টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি টাকা চেয়েছিলেন। তাপস মণ্ডলকে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজসাক্ষী হবেন কি তাপস
এদিকে তাপস মণ্ডল রাজসাক্ষী হতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এর আগে তাপস মণ্ডলকে জেরা করেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিপুল আর্থিক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল সিবিআই। তার তথ্যের উপর নির্ভর করেই কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এবং কুন্তল ঘোষ দাবি করেছিলেন তাপস মণ্ডল তাঁর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। যদিও পরে তাপস মণ্ডলই দাবি করেছেন তিনি ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন তাপসের কাছে। কোন তথ্য গোপন রাখতে তিনি এই বিপুল পরিমাণ টাকা চেয়েছিলেন তা জানতেই তৎপর সিবিআই। মনে করা হচ্ছে রাজসাক্ষী হয়ে যেতে পারেন তাপস মণ্ডল।

কুন্তলের কাছে টাকা নিতেন নীলাদ্রী
এই ঘটনায় নীলাদ্রি ঘোষকেও গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাপস মণ্ডলই নীলাদ্রি ঘোষের কথা বলেছিলেন। টাকার লেনদেনের কাজ করত নীলাদ্রি। আদালতে সেকথা স্বীকারও করেছে সে। কুন্তলের কাছে টাকা পৌঁছে দিত নীলাদ্রি। তার কাছে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে তাঁদে হেফাজতে চেয়েছিল সিবিআই। সেই আর্জি মেনেই তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ এবং নীলাদ্রিকে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদের তিনজনকে মুখেমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় তদন্তকারীরা।












Click it and Unblock the Notifications