রাফায়েল নাদাল ফরাসি ওপেন থেকে সরে দাঁড়ালেন, অবসর নিয়ে জোরালো চর্চা
ফরাসি ওপেনের জৌলুস কমে গেল। সরে দাঁড়ালেন রাফায়েল নাদাল। আজ এক প্রেস কনফারেন্সে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী স্প্যানিয়ার্ড কিংবদন্তি। গত চার মাস ধরে ভোগাচ্ছে হিপ ইনজুরি। সে কারণে খেতাব দখলে রাখার লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে হলো।
অনির্দিষ্টকালের বিরতিও নিয়েছেন নাদাল। আর তাতেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। উইম্বলডন বা ইউএস ওপেনেও এবার তিনি নামবেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা নেই। যদিও পুরো ফিট হয়ে কোর্টে ফেরার ব্যাপারে প্রত্যয়ী রাফা।

নাদাল বলেন, রোলা গারোঁয় খেলতে পারছি না। ফরাসি ওপেন খেলার জন্য ফিট হওয়ার সবরকম চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া থেকে যে সমস্যায় ভুগছি তা থেকে মুক্ত হওয়ার পথ পাচ্ছি না। ফলে এই চার মাস খুব কঠিন গিয়েছে। নিজের সেরাটা দিতে পারবেনা না, এটা উপলব্ধি করেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন নাদাল।
পেশাদার টেনিসে প্রত্যাবর্তনের সঠিক দিনক্ষণও জানাতে পারেননি রাফা। তিনি বলেন, কিছু সময়ের জন্য থামতে হবে। সে কারণেই থামার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি জানি না কবে কোর্টে নেমে প্র্যাকটিস শুরু করতে পারব। ২ থেকে ৪ মাস লাগতে পারে। শরীরের প্রতি যত্ন ও ব্যক্তিগত জীবনে খুশির জন্য যা দরকার আপাতত সেটাই করছি।

এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকেই হিপ ইনজুরির সমস্যায় ভুগছেন নাদাল। মন্টি কার্লো, মাদ্রিদ ও রোমে মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্টেও খেলতে পারেননি। যতটা দ্রুত তিনি ফিট হবেন ভাবা গিয়েছিল তা হয়নি। নাদাল এদিন অবশ্য জানিয়েছেন তিনি ২০২৪ সালে টেনিসকে বিদায় জানাতে চান। তবে তা ফরাসি ওপেনেই হবে কিনা তা স্পষ্ট করেননি।
নাদাল প্রায় দুই দশকের কেরিয়ারে ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার পাশাপাশি ২০০৮ সালে অলিম্পিকে সিঙ্গলসে সোনা জেতেন, ২০১৬ সালে মার্ক লোপেজকে নিয়ে ডাবলসে অলিম্পিক সোনা জেতেন। ২০০৫ সালে ফরাসি ওপেন খেতাব জেতার পর থেকে প্রতিটি সংস্করণেই খেলেছেন। সিঙ্গলস খেতাব জিতেছেন রেকর্ড ১৪ বার।

গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে আকস্মিকভাবে ছিটকে যান নাদাল। হিপ ইনজুরি নিয়েই খেলতে গিয়ে ম্যাকেঞ্জি ম্যাকডোনাল্ডের কাছে হার মানতে বাধ্য হন। তবে মাঝপথে সরে দাঁড়াননি। তারপর থেকে এটিপি ট্যুরের কোনও ইভেন্টে তাঁকে দেখা যায়নি। এবার কিং অব ক্লে-কে মিস করবেন টেনিসপ্রেমীরা।
ফরাসি ওপেনে ১৮ বার খেলেছেন। ১১২টি ম্যাচে জিতেছেন। হার তিনটিতে। তাঁর এই সাফল্যের ধারেকাছে নেই কোনও পুরুষ বা মহিলা টেনিস প্লেয়ার। পায়ের পাতার যন্ত্রণা নিয়েও গত বছর ৩৬ বছর বয়সে ফরাসি ওপেন খেতাব জিতেছিলেন। সবচেয়ে বেশি বয়সের প্লেয়ার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড তাঁর দখলে।












Click it and Unblock the Notifications