উন্নয়নের জন্য যেতে চান মমতার কাছেও! কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে ঠিক কী বললেন সৌমিত্র খাঁ
দলের রাজ্য নেতৃত্বের ওপর রাগও নেই, ভালবাসাও নেই, বললেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ধলডাঙ্গা মোড়ে একটি বেসরকারি হোটেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওই কথা বলার পাশাপাশি ফের দলবদল করে তৃণমূলে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তিনি।
একইসঙ্গে এদিন তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-বিধান চন্দ্র রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দু'টি পৃথক রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন ওঁরা। তবুও খুব ভাল সম্পর্ক ছিল ওঁদের। তিনি বাঁকুড়া থেকে সেই চেষ্টাই করছেন। এছাড়াও বাঁকুড়া-সহ এরাজ্যের উন্নয়নই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিন সৌমিত্র খান বলরেন, বাংলায় কৃষ্টি ফিরিয়ে আনবেন, তা বিষ্ণুপুর থেকে শুরু হবে। সেটা তিনিই শুরু করতে চান। তবে তর জন্য দল পরিবর্তন করতে হবে, তেমনটা নয়। তিনি বলেছেন, সারা ভারতের গরিব মানুষ যেমন আবাস যোজনার টাকা পাচ্ছে, তেমনই তাঁর এলাকার মানুষও যেন পান, তার জন্য ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন। তিনি চান, বাঁকুড়া বিষ্ণুপুরের উন্নতি।
বিষ্ণুপুরের উন্নতির জন্য তিনি মুকুটমণিপুর রেলপথের জন্য আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ। বাঁকুড়া-রানিগঞ্জ রেলপথের জন্য তিনি রেলমন্ত্রীকে জানাবেন। বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথেরও জন্যও তিনি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
সৌমিত্র বলেছেন, তিনি চান বিষ্ণুপুরের মানুষের পাশাপিশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষরা একশো দিনের কাজ পাক। মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় তিনি দিন দুয়েক হতাশায় থাকলেও, নিজেকে ব্যতিক্রমী বলে দাবি করেছেন সৌমিত্র খান।
সৌমিত্র বলেছেন, রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি তাঁর রাগও নেই, ভালবাসাও নেই। তিনি বলেছেন, বাচ্চা কিংবা বৃদ্ধদের ওপরে রাগ করা যায় না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারে বাারে সুযোগ দেওয়ার পরেই সেখানে পৌঁছতে না পারাটা ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এই ব্যর্থতাকে স্বীকার করতে হয়।
তিনি বলেন, শুধু মাত্র বিরোধিতা করে আটকে দিয়ে, ১০০ দিনের টাকা না দিয়ে বিষয়টির মীমাংসা হবে না। বিষয়টিকে অন্যভাবে ভাবতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলার উন্নতির জন্য যদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তাবলে তিনিও এলাকার উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরে সৌমিত্র খান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছিলেন। তারপর সোমবার তিনি প্রকাশ্য রাস্তায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ভবতারণ চক্রবর্তীকে দেখে প্রণাম করেন। যা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে জল্পনা তীব্র হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications