প্রায় বছরভর ডুবে থাকা মন্দিরকে ঘিরে আকর্ষণ পর্যটকদের! হেরিটেজ তকমার দাবি মুকুটমনিপুরবাসীর
বছরের প্রায় ন'মাস মুকুটমনিপুরের কংসাবতী জলাধারের জলে ডুবে থাকে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন লক্ষ্মী-জনার্দণের মন্দির। মোটামুটি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জলাধারের জল কমলে থাকলে আস্তে আস্তে দেখা মেলে ওই মন্দিরেরও।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অভিভক্ত মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও হুগলি জেলার ৩,৪৮৪.৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জলসেচের উদ্দেশ্যে বর্তমান মুকুটমনিপুরে কাঁসাই ও কুমারী নদীর সঙ্গমস্থলে কংসাবতী সেচ প্রকল্প চালু হয়।

জনমুখী ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ১৭৩ টি মৌজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়। প্রকল্প এলাকার মধ্যে পুড্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝরিয়া গ্রামের উৎকল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সুবুদ্ধি পদবীধারী মানুষদেরও ওই জায়গা ছেড়ে আসতে হয়। আসার সময় কূলদেবতা লক্ষী জনার্দনকে সাথে করে নিয়ে আসতে পারলেও বিগ্রহহীন অবস্থায় পড়ে থাকে মন্দির।
প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলেও কোন অজ্ঞাত কারণে চুন-সুরকির তৈরি মন্দির আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে কালের নিয়মে কেউ বা কারা নিয়ে গেছে মন্দিরের দরজা-জানালা। তবে বর্তমান সময়ে হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা মন্দির মুকুটমনিপুরে বেড়াতে পর্যটকদের অন্যতম দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ওই লক্ষ্মী জনার্দন বিগ্রহ হীড়বাঁধের ভগড়া গ্রামে রয়েছে। সেখানেই সুবুদ্ধি পরিবারের সদস্যরাই নিত্য পূজা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা থেকে সুবুদ্ধি পরিবারের বর্তমান সদস্যরা সকলেই চান প্রাচীণ ও মন্দিরকে 'হ্যারিটেজ' তকমা দেওয়া হোক, সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার। এর ফলে জল জঙ্গল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা 'বাঁকুড়ার রাণী' মুকুটমনিপুরে আসা পর্যটকদের কাছে আরও একটি দর্শনীয় স্থান খুলে যাবে বলে তাঁরা মনে করছেন বলে জানান.












Click it and Unblock the Notifications