গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে? বাঁকুড়া পুরসভায় তৃণমূল নেতার 'দাদাগিরি'!
কাজ না করলে পুরসভার কর্মীদের গুলি করা হবে। মেরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী। তার জেরে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাঁকুড়া পুরসভার আলো বিভাগের কর্মীরা। তাই নিয়ে শুরু হয়ে চাপানউতোড়। তবে নিজের বক্তব্যে অনড় কাউন্সিলরের স্বামী।
এবার 'বাহুবলি' তৃণমূল নেতার খোঁজ মিলল বাঁকুড়া শহরে। বৃহস্পতিবার পুরসভার আলো বিভাগে ঢুকে বিভাগের ইনচার্য অজয় দে-কে 'শারিরীক হেনস্থা' করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য কর্মীদের 'গুলি করে মেরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া'র হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পিঙ্কি চক্রবর্তীর স্বামী বাপি চক্রবর্তী।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা। অভিযুক্ত বাপি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে 'কড়া ব্যবস্থা' নেওয়ার দাবিতে সরব তারা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মীরা 'কর্মবিরতি' চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া পুরসভার আলো বিভাগের ইনচার্য অজয় কুমার দে-র দাবি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী বাপি চক্রবর্তী ও তার দলবল অফিসে ঢুকে অবাধে হামলা চালায়। ফাইল-খাতা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদেরও হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
ওই বিভাগের কর্মীদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার বাপি চক্রবর্তী হুমকি দিয়েছেন। তখন বিষয়টি পাত্তা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিআইসি অভিজিৎ দত্ত এই বিষয়ে বলেন, কাউন্সিলর পিঙ্কি চক্রবর্তীর স্বামী যা করেছেন তা সমর্থনযোগ্য নয়। বিষয়টি পুরপ্রধানকে তিনি জানিয়েছেন।
উপ পুরপ্রধান হীরালাল চট্টরাজ বলেন, বিষয়টি যথেষ্ট নিন্দনীয়। তবে পুজোর মরশুমে কর্মবিরতি না করাই ভালো। এই বিষয়ে পুরপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করব। তবে কিছু হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঁকুড়া জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, আমরা দলের তরফে ওই ঘটনার নিন্দা করছি। অতীতে এই ধরনের ঘটনার সাক্ষী বাঁকুড়া ছিল না। কাদের মদতে এই দাদাগিরি চলছে খুঁজে বের করতে হবে। বিহিত না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
যদিও অভিযুক্ত বাপি চক্রবর্তীর কোনও হেলদোল নেই। তিনি জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষ সঙ্গে ছিলেন। প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল কাজ না করার জন্য।












Click it and Unblock the Notifications