Panchayat Election 2023: ভোটের আগেই থামল গেরুয়া ঝড়, ৪ সমিতি-৩৭ পঞ্চায়েতে জয় তৃণমূলের
ভোট গ্রহণের আগে মনোনয়ন পর্বেই আকাঙ্খিত জয় তুলে নিল তৃণমূল। বাঁকুড়ার 'গেরুয়া গড়ে' থাবা বসিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল জেলার ৪ পঞ্চায়েত সমিতি ও ৩৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে করে নিল। বিনা প্রতিদ্বন্বিজেতায় জয়ী হল তৃণমূল কংগ্রেস।
বিগত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুলভাবে পর্যুদস্ত করেছিল বিজেপি। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে তারা শেষরক্ষা করতে পারল না। বাঁকুড়ার ইন্দাস, পাত্রসায়র, জয়পুর ও কোতুলপুর- এই চার পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ী হয় তৃণমূল।

শুশু পঞ্চায়েত সমিতিই নয়, ওই এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনেও তৃণমূল বিজয়ী হল। প্রার্থীই দিতে পারেনি বিজেপি। অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে শনিবার মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনীর পর দেখা গেল বাঁকুড়ার চারটি ব্লকে তৃণমূল জয়ী হয়েছে ভোটের আগেই।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির ২৬টি আসনের মধ্যে ২৩টি, কোতুলপুরের ২৪টির সবকটিই, ইন্দাসে ২৯টির মধ্যে ২০টি ও পাত্রসায়রের ৩০টির মধ্যে ৩০টিই তৃণমূল জিতেছে। ওই চার পঞ্চায়েত সমিতির ৩৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
বাঁকুড়ার চারটি পঞ্চায়েত সমিটিত এলাকায় জয়ের এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আনন্দোৎসবে মেতে ওঠেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। যদিও এই প্রার্থী দিতে না পারার পিছনে 'তৃণমূলী সন্ত্রাস'কেই দায়ী করছেন বিরোধী বামফ্রন্ট ও বিজেপির নেতারা।

সিপিএম বাঁকুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক অজিত পতি বলেন, এটা তৃণমূলের জয় বলে মেনে নিতে পারছি না। পুলিশ-প্রশাসনের অসহযোগিতায় আমাদের দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। বিডিও অফিসের ভিতর থেকে প্রার্থী ও তাঁদের প্রস্তাবকদের মেরে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের কাগজপত্র ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা-প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, রাজ্যজুড়ে প্রাক নির্বাচনী সন্ত্রাস চালিয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যেও বাঁকুড়া জেলায় অনেক জায়গায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। হিম্মত থাকলে শান্তিপূর্ণ ভোট করাক রাজ্যের সরকার, তাহলেই জবাব পাবে।

তিনি দাবি করেন, পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের গুণ্ডামি মানেই লোকসভা ভোটে তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়া। আগামী দিনেই এর উত্তর মিলবে। আগামী বছরই লোকসভা ভোট। এই চার পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার মানুষ তৃণমূলকে জববা দিতে মুখিয়ে রয়েছে।
যদিও বাম-বিজেপির এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, কোনো সন্ত্রাস হয়নি। বিরোধীরা প্রার্থী করার মতো কাওকেই পায়নি। তাই তারা প্রার্থী দিতে পারেননি। প্রার্থী দিতে না পেরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।












Click it and Unblock the Notifications