নদীর পাড়ে সাত সকালে মুড়ি খাওয়ার ঢল, যাবেন না কি বাঁকুড়ার মুড়ি মেলায়?
সকাল থেকেই ভিড় দ্বারকেশ্বর নদীর পাড়ে। খোসমেজাজে মানুষজন। তেল, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, আলু, টমাটো, চানাচুর, কাসুন্দি সঙ্গে আর কীই বা নেই৷ আর মুখ্য উপকরণ মুড়ি তো আছেই। এই মুড়ির জন্যই নদীর পাড়ে আসা।
কেবল মুড়ির জন্য শয়ে শয়ে মানুষ নদীর পাড়ে! তাও আবার মাঘের এই কনকনে ঠান্ডায়? হ্যাঁ। মাঘের চার তারিখ দলে দলে মানুষ ভিড় করে এখানেই। নদীর পাড়ে যেন উৎসব। মুড়ির মেলা বসে এখানে। রাঢ় বাংলার জেলা বাঁকুড়ার এক অন্যতম মেলা।

বাঁকুড়ার মানুষ মুড়ি প্রিয়। মুড়িকে নিয়ে এই জেলার মানুষদের মধ্যে অনেক চর্চাও আছে। মাঝেমধ্যে বিদ্রুপও এসেছে বটে। কিন্তু তাতে মুড়ি খাওয়ার প্রচলন এত টুকুও কমেনি। এই মুড়ি ও মুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শতকেরও বেশি সময় ধরে আস্ত একটা মেলার আয়োজন হয়।
তাহলে আর শুনছেন কী! বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে এই মেলার আসর বসে। এই মেলায় ফি বছর ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ!বাংলা ক্যালেণ্ডারের মাঘ মাসের চার তারিখ এই মেলার আসর বসে।
প্রায় দু'শো বছরের প্রাচীন এই মেলা। এদিন বৃহস্পতিবার কেঞ্জাকুড়া দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে এই মেলা বসল। সঞ্জীবনী মাতার মন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। বাৎসরিক 'মুড়ি মেলা'য় অংশ নিলেন অসংখ্য মানুষ। কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আকাশ ছিল সকালে। কিন্তু তাতে উৎসাহের কোনও ভাতা পড়েনি।
এদিন সকাল থেকে নদীর চরে বসে শুধু মুড়ি খাওয়ার আনন্দে বন্ধু বান্ধব সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন অনেকেই। বর্তমান সময় সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। 'মুড়ি মেলা'র আগাম খবর আশেপাশেও ছড়িয়ে গিয়েছিল। আনন্দ উৎসবের স্বাদ নিতে আশপাশের মানুষজন হাজির হন।
বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই মেলায় অংশ নিয়েছিলেন।সমস্ত ভেদাভেদ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এই মেলায় যোগ দেন বলে খবর। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের মধ্যেও এই 'মুড়ি মেলা'কে ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে।
রাশি-রাশি মুড়ি নিয়ে সাধারণ মানুষ উপস্থিত। নদীর পাড়েই মুড়ি মেখে খাওয়া। অতি উৎসাহীদের সেলফি নেওয়া আর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার ঘটনাও দেখা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications