স্বপ্নাদেশ থেকে চালাঘরে দুর্গাপুজোর শুরু, বাঁকুড়ার শীট জমিদার বাড়ির পুজোয় রোশনাই
স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন তিনি৷ এক বালিকা এসেছিল। দেবী দুর্গার পুজো শুরু করলে শ্রাই বাড়বে। সেই কথা বলা হয়। সেই সময় থেকেই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন জনৈক স্বার্থক শীট। সেখান থেকেই এক সময় বিশাল জমিদারি৷ বাঁকুড়ার ওন্দার এই বাড়ির পুজো এখনও সমানভাবে আকর্ষণীয়।
জমিদারি গিয়েছে কবেই। তবুও ওন্দার কোষ্ঠীয়া শীট জমিদার বাড়ির পুজোর রীতিনীতি একই রকম রয়ে গিয়েছে। আগেও এই জমিদার বাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষ আনন্দোৎসবে মেতে উঠতেন। তিনশো বছরেরও বেশি সময় হয়ে গিয়েছে। সেই ছবিটা বিন্দুমাত্র বদলায়নি। প্রাণের এই পুজোকে ঘিরে শীট বাড়ির বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি ওই এলাকার মানুষেরও সমান আগ্রহ রয়েছে।

কিন্তু এই শীট বাড়ির পুজো শুরুর ইতিহাস যথেষ্ট রোমাঞ্চে ভরা। দেবী এখানে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন। কথিত আছে, বনগ্রাম থেকে জনৈক স্বার্থক শীট জঙ্গলে ঘেরা কোষ্ঠিয়ায় এসে উপস্থিত হন। এক সময় সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরে সেখান থেকেই জমিদার হন।
জীবন জীবিকার শুরুতে বেশ কিছু মহিষ প্রতিপালন করতেন তিনি। একদিন ওই মহিষ জঙ্গলে চরাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্লান্ত হয়ে তিনি গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়েন। সেই সময়ই এক বালিকা স্বপ্নে হাজির হয়েছিলেন। সে তাকে দুর্গাপুজো করার কথা বলে। বলা ভালো, বালিকা রূপে স্বয়ং দেবী নিজে এসেছিলেন। এমনই কথিত আছে। পুজো করলে শ্রীবৃদ্ধি হবে। এই কথা জানানো হয়।
চার ছেলেকে নিয়ে চালাঘরের মধ্যে দেবী আরাধনা শুরু হয়। ক্রমে তাঁর অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে থাকে। পুকুর, জমি জিরেত হতে থাকে। ১৬ টি নিয়ে মৌজা নিয়ে জমিদারি শুরু হয়। পাশাপাশি কয়েক হাজার বিঘা বনভূমির মলিক হয়ে ওঠেন স্বার্থক শীট।
তৈরি হয় বিশাল জমিদার বাড়ি৷ পুজোর জন্য পরে তৈরি হয় বিশাল দুর্গা দালান। কালের নিয়মে জমিদারি প্রথা লোপ পায়। কিন্তু পুজো চলে আসছে বংশ পরম্পরায়৷ ঠাকুর দালানেই প্রতিমা তৈরির কাজ হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী, সেই বাড়িতে আজও উৎসব হয় একই রকম ভাবে।
জমিদারি প্রথা লোপ পাওয়ার পর দেবোত্তর সম্পত্তি ও পুকুরের আয় থেকেই পুজোর খরচ উঠে আসে। শীট পরিবারের বর্তমান সদস্যরা এই কথা জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications