ডাক্তারবাবুর উচ্চশিক্ষায় সুযোগ, বিদায়বেলায় কেঁদে ভাসালো বাঁকুড়ার গ্রামের মানুষ
রক্তের সম্পর্ক নেই তাঁর সঙ্গে। তার থেকেও যেন গভীর সম্পর্ক আছে। গ্রামের মানুষরা কেঁদে ভাসালেন ডাক্তারবাবুর জন্য৷ স্যালাইন চলা এক রোগীও বিদায় জানাতে চলে এলেন বাইরে৷
বাঁকুড়ার চিকিৎসক সুমন ষন্নিগ্রহী চলে গেলেন এলাকা ছেড়ে। সিমলা ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালের তিনি চিকিৎসক ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তাঁকে যেতে হবে। তাই মন না চাইলেও সাধারণ মানুষ তাঁকে বিদায় জানালেন। চোখের জল পড়ল সাধারণ মানুষের।

চিকিৎসকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেঁদে ভাসালেন খাতড়ার ধানাড়া, সুপুর ও বৈদ্যনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। এমনকী ছল ছল চোখে স্যালাইন হাতে নিয়েও এক রোগীনী অনুষ্ঠান স্থলে থাকলেন। ঘটনাস্থল খাতড়ার সিমলা ব্লক প্রাথমিক হাসপাতাল।
সত্তরের দশকে সিমলা ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালের পথ চলা শুরু। এলাকার অন্তত ৬০ টি গ্রামের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। ২০১৭ সালে সিমলাপালের ভূতশহরের বাসিন্দা চিকিৎসক সুমন ষন্নিগ্রহী এই হাসপাতালে কাজে যোগ দেন।
তারপর থেকেই পরিকাঠামো ও চিকিৎসাগত পরিষেবা উন্নত হতে থাকে হাসপাতালের। অল্প দিনের মধ্যেই এলাকার প্রতিটি মানুষের অত্যন্ত কাছের হয়ে ওঠেন তিনি। হাসপাতালের উপর অনেক বেশি নির্ভরতা বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে ওই চিকিৎসকের বদলির চিঠি এসেছিল। সাধারণ মানুষরা প্রতিবাদ শুরু করে। ডাক্তারবাবুদের যেতে দেওয়া হবে না। এই দাবিতে আন্দোলন হয়। এলাকার মানুষ তাঁর বদলি আটকাতে পথে নেমেছিলেন। স্বাস্থ্য দফতর মানুষের দাবি ফেলতে পারেনি। ওই হাসপাতালেই কর্মসূত্রে থেকে যান চিকিৎসক সুমন ষন্নিগ্রহী।
কিন্তু এবার বদলি নয়৷ উচ্চশিক্ষার সুযোগ তিনি পেয়েছেন। কলকাতা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজে এম.ডি করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের মন ভারাক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু শেষ অবধি মনে পাথর চাপা দিয়ে চিকিৎসককে বিদায় জানানো হল।
ডাক্তারবাবুর গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হল। নিজেদের সাধ্যমতো বুধবার করা হল বিদায় সম্বর্ধনা। চোখের জল বাধ মানল না।চিকিৎসক সুমন ষন্নিগ্রহীও কৃতজ্ঞ মানুষের কাছে। কখনও সুযোগ হলে এই এলাকার মানুষের কাছে তিনি আবারও ফিরে আসবেন। জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications