রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন দুর্গাপুর! এক বুক জলে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন স্থানীয়রা
রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন দুর্গাপুরের বেশ কিছু অঞ্চল। পুরসভার বেশকিছু ওয়ার্ডের গলির ভিতরে প্রবল জলস্রোত। জলে ডুবে রয়েছে চার চাকা গাড়ি। বুধবার রাত থেকেই দুর্গাপুরে শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি। ফলে জল জমে দুর্গাপুর এনআইটি সংলগ্ন রাস্তায় ব্যাহত হয়ে পড়ে যান চলাচল। বিপাকে আমজনতা। দুর্গাপুর ৫৪ ফুট তপবন এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন।
ছটির মত গাড়ি সকাল আটটা পর্যন্ত এক বুক জলের তলায় দাঁড়িয়ে থাকে। স্থানীয় মানুষেরা এক বুক জলে হেঁটে রাস্তা পারাপার করে। এ দৃশ্য অকল্পনীয়। বহু মানুষের বাড়িতেও জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে বাড়াতে থাকা খাবার ও জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে । বেলা বাড়লেও বৃষ্টি থামার নাম নেই।

রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় দুর্গাপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা পার্ক জলের তলায়। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড স্টিল পার্ক এলাকা জলমগ্ন। শহরাঞ্চলে এমন বৃষ্টি ও এমন জলের স্রোত আগে দেখেননি বাসিন্দারা। সাড়ে আটটার পরও ঘর থেকে বের হতে পারেননি কাজে। শিল্পাঞ্চলের মানুষ এখন উদ্বিগ্ন হয়ে চেয়ে রয়েছেন কখন বৃষ্টি থামবে।
এদিকে, বুধবার বিকেল থেকে কলকাতায় শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। যার কারণে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তাতেও জল জমে যায়। ব্যাহত হয় যান চলাচল। বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থানে বসে থাকেন অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা।
বর্ষা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিয়েছে বাংলা থেকে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে এখনও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। তবে দক্ষিণ ভারতের কাছে থাকা ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবও পড়ছে বাংলায়। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে।
এর প্রভাবেই আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হবে উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কর্নাটক এবং দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও। বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে স্থলভাগে। তার প্রভাবেই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানায় আলিপুর আবহাওয়া দফতর।












Click it and Unblock the Notifications