বর্ধমান স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভাঙার ঘটনার রেলের বিরুদ্ধে এফআইআর, আজও আতঙ্ক
বর্ধমান স্টেশনে জলের বিশাল ট্যাঙ্ক ভেঙে তিন জন মারা গিয়েছেন। সেই ঘটনায় বর্ধমান জিআরপিতে এফআইআর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বর্ধমান রেল স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
ট্যাঙ্ক ভেঙে বিপত্তির জেরে এবার রেলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হল। গাফিলতির জেরে মৃত্যু সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বিপুল পরিমাণ জল সমেত ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে।

গতকালই তিন জন মারা গিয়েছেন। ৩৪ জন আহত হয়ে বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ রেলের তরফে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকালই জলের ট্যাঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছিল। সেইসময় জানানো হয়, প্রতি বছরই ট্যাঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ হয়৷ চলতি মাসেও সেই ট্যাঙ্ক রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে।
তাহলে এমন বড় দুর্ঘটনা হল কীভাবে? দুর্ঘটনায় মাফিজা খাতুন নামে এক মহিলা মারা গিয়েছেন। তিনি আত্মীয়কে স্টেশনে ছাড়তে গিয়েছিলেন। তার স্বামী একটি লিখিত অভিযোগ বর্ধমান জিআরপিতে দায়ের করেন। ৩০৪(এ) ধারায় এই অভিযোগ দায়ের হয়। রেল পুলিশ গাফিলতির কারণে মৃত্যু এই ধারায় এফআইআর নিয়েছে। যারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শতাব্দী প্রাচীন ওই জলের ট্যাঙ্ক। এদিকে বর্ধমান হল অমৃত রেল স্টেশনের তালিকায়। ফলে এত বড় দুর্ঘটনায় আরও বেশি করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর থেকে স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। বৃহস্পতিবার সকালেও যাত্রীদের মধ্যে সেই আতঙ্ক কাজ করেছে।
ভাঙা জলের ট্যাঙ্ক অনেকেই দূর থেকে দেখেছেন। স্টেশন চত্বরের ওই দুই প্ল্যাটফর্ম জলে এদিনও ভেজা। জল সরবরাহতেও সমস্যা রয়েছে স্টেশন চত্বরে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, অফিসের সময় হলে বহু মানুষের মৃত্যু হত৷ কারণ, এই ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অফিস যাত্রীদের চাপ থাকে।
শুধু তাই নয়, যাত্রীদের মধ্যে অনেক ক্ষোভও রয়েছে। এই স্টেশনে পরিষেবা ঠিক মতো পাওয়া যায় না। চলন্ত সিঁড়িও বন্ধ থাকে। ওভারব্রিজের উপর যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকেন দীর্ঘ সময়। সেই ওভারব্রিজও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করেন বহু যাত্রী।












Click it and Unblock the Notifications