শক্তিগড়ে অনুব্রত মণ্ডলের ব্রেকফাস্ট টেবিলে কারা, বিল মেটালেন কে? পুলিশের 'চোখ' এড়িয়ে কী নির্দেশ কেষ্টর
পুলিশকে এড়িয়ে ৩ 'অজ্ঞাত পরিচয়' ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুব্রত মণ্ডলের। দায় এড়াচ্ছে পুলিশও।
বেলা এগারোটা নাগাদ কলকাতায় জোকার ইএসআই হাসপাতালে পৌঁছে গেল অনুব্রত মণ্ডলের কনভয়। তবে এর আগে আটটা পঞ্চাশ নাগাদ যখন তাঁর কনভয় শক্তিগড়ে থামে ব্রেকফাস্টের জন্য, সেই সময় অনুব্রত মণ্ডল টেবিলে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলেন। সেই সময় কোনও পুলিশকর্মীকে সেখানে বাধা দিতে দেখা যায়নি।

ব্রেকফাস্ট টেবিলে কারা
এদিন সকাল আটটা পঞ্চাশ নাগাদ অনুব্রত মণ্ডলের কনভয় থামে শক্তিগড়ের একটি খাবারের দোকানে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তিন যুবক। অনুব্রত মণ্ডল সেখানে ঢুকতেই ওই তিনজন এবং অনুব্রত মণ্ডল আলাদা একটি টেবিলে চলে চান। অন্যদিকে কনভয়ে থাকা বাকি পুলিশকর্মীরা ছিলেন অন্য টেবিলে। তবে অনুব্রত মণ্ডলকে দূর থেকে হাসি হাসি মুখে গার্ড দিয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। পরে জানা যায় ওই তিনজনের মধ্যে একজন হলেন বোলপুরের টিএমসিপি নেতা কৃপাময় ঘোষ এবং আরেকজন হলেন মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের গাড়ির চালক তুফান মিদ্দা।

কী নির্দেশ দিলেন
অনুব্রত মণ্ডল ওই তিনজনের সঙ্গে ৮.৫০ থেকে ৯.২০ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বৈঠক করেন। কৃপাময় ঘোষের কানে কানে কিছু কথা বলতেও দেখা যায় বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতিকে। গত বছরে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতার পর থেকে এই কৃপাময় ঘোষ এবং তুফান মিদ্দা বিভিন্ন সময় হেফাজতে থাকা নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছেন দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে।
এই দুজনকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। এঁদের মধ্যে তুফান মিদ্দার সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইডি।

বিল মেটালেন কে?
দোকানের এক কর্মীকে অনুব্রত মণ্ডল পকেট থেকে কিছু বের করে দিতেও দেখা যায়। পরা জানা যায় অনুব্রত মণ্ডল এদিন প্রাতরাশের টাকা দিয়েছেন। অনুব্রত মণ্ডল এবং টেবিলে থাকা বাকি তিনজনতে দেওয়া হয়েছিল ৪ টে করে কচুরি, সঙ্গে ছোলার ডাল। ছিল ল্যাংচা এবং রাজভোগও। জল খেয়ে মুখ মুছে অনুব্রত মণ্ডল পকেট থেকে টাকা বের করে দেন। দোকানের এক কর্মী জানিয়েছেন, অনুব্রত মণ্ডল আগেও ওই দোকানে এসেছেন। ওই দোকান সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বিল হয়েছিল ৯৯৫ টাকা। সবুজ পঞ্জাবি পরা টিএমসিপি নেতা কৃপাময় ঘোষও কিছুটা বিল মেটান বলে সূত্রের খবর।

পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে সাক্ষাত
যে অনুব্রত মণ্ডলকে কলকাতায় পৌঁছে দিতে অস্বীকার করেছিল আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট, আদালতের নির্দেশে আসানসোল স্পেশাল জেল কর্তৃপক্ষ আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের সহযোগিতা এদিন অনুব্রত মণ্ডলকে কলকাতায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে যখন এতটাই প্রশ্ন তখন কীভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন তিন ব্যক্তি। তাঁরা যতই তৃণমূল কর্মী হোন কিংবা অনুব্রত মণ্ডলের পরিচিত হোন না কেন? আবার পুলিশ কর্মীদের হাসি মুখও দেখা গিয়েছে সেই সময়।












Click it and Unblock the Notifications