পথ কুকুরদের চিকিৎসা, ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে শিলিগুড়ির রাজ
পথ কুকুররা মানুষেরই সহ নাগরিক। কিন্তু সেই কুকুরদেরই আঘাত দিয়ে আহত করতে পিছপা হন না বহু মানুষ। সেখানে এই আহত পথ কুকুরদের সেবা শুশ্রূষা দিয়ে সারিয়ে তোলাই জীবনের ব্রতী বেশ কিছু পশুপ্রেমী সংস্থার সদস্যদের।
তেমনই এক পশুপ্রেমী সংস্থার সদস্য শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার বাসিন্দা রাজদীপ মহান্ত। পথ কুকুরদের সেবা শুশ্রূষার জন্য ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হল। শুক্রবার তার হাতে এসে পৌঁছল মেডেল, সার্টিফিকেট সহ বই।

স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম নথিভুক্ত হওয়ার আপ্লুত রাজদীপ ও তার বাবা রতন মহান্ত। রাজদীপের ছেলেবেলা থেকেই কুকুরের প্রতি একটা আলাদা টান ছিল। কিন্তু পারিবারিক কিছু সমস্যার জন্য বাড়িতে কুকুর পুষতে পারেনি। তার মনে এজন্য একটা আক্ষেপ ছিল।
পাশাপাশি এই অবলা জীবটির প্রতি আকর্ষণ বাড়তে শুরু করল। বাড়িতে কুকুর না পুষতে পারলে কী হবে? পথ কুকুরদের তিনি আদর করে কাছে টেনে নিতেন। অনেকে পথ কুকুরদের দূর করে তাড়িয়ে দেন। অনেকে পথ কুকুরদের প্রতি এতটাই বিতশ্রদ্ধ যে তাদের আঘাত করেন। আহত করতেও পিছপা হন না।
অসহায় অবলা জীবদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে কলেজে পড়ার সময় পরিচয় হয় রাজদীপ মহান্তর। এমনিতেই কুকুরদের প্রতি সুপ্ত ভালোবাসা ও টান রয়েছে রাজদীপের। তাই পশুপ্রেমী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন রাজদীপ। আহত কুকুরদের কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা যায়? তা এই পাচ বছরে এক প্রকার রপ্ত করে ফেলেন রাজদীপ।

তিনি বর্তমানে ডাবগ্রামের পলিটেকনিক কলেজে পড়াশুনা করছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি কুকুরদের প্রাথমিক চিকিৎসার কাজটিও সমান তালে করে চলেছেন। তিনি জানান গত মাসে তিনি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে তার নাম পাঠানো হয়।সেখানে তার কর্মকাণ্ডের সমস্ত দিক বিচার বিবেচনার পর ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম নাম নথিভুক্ত হয়।
পুরষ্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন মেডেল, সাটিফিকেট ও বই। এদিন রাজদীপের বাবা সেই ছেলের গলায় মেডেল পড়িয়ে দেন। ছেলেকে মিষ্টি মুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।












Click it and Unblock the Notifications