রাস্তায় ছুটছে একের পর এক কালী প্রতিমা, মানুষের ঢল, কোথায় গেলে দেখবেন এই ঘটনা?
রাস্তা যেন জনসমুদ্র। গিজগিজ করছে মাথা। আর তার মধ্যেই কালী প্রতিমা ছুটে চলেছে। একটা দুটো নয়। একাধিক প্রতিমা ছুটছে রাস্তা দিয়ে। ঘুরপাক খাচ্ছে গোল হয়ে। কী ভাবছেন? এমন কখনও হয় না কি? হ্যাঁ, হয়। আর তা দেখতে হলে যেতে হবে মামলার চাঁচলে।
রাজার প্রচলিত রীতি মেনে চাঁচলের মালতীপুরে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। এলাকার আটটি কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে ছোটেন এলাকাবাসী। কালী দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে রচিত হয় সম্প্রীতির আবহ। কিন্তু কেন এভাবে প্রতিমাকে নিয়ে ছুটবে মানুষজন?

দৌড় প্রতিযোগিতা। মাথায় করে মা কালীর প্রতিমা নিয়ে এই 'কালী দৌড়'-এর আয়োজন। এর ইতিহাস সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো। চাঁচলে আজও মা'কে বিসর্জন দেওয়া হয় মাথায় করে দৌড়ে নিয়ে গিয়ে। উদ্যোক্তারা নিজেদের পূজিত কালী প্রতিমা মাথায় নিয়ে দৌড়ান ঘাটের দিকে। প্রতিযোগিতা দর্শনে ভিড় উপচে পড়ে এলাকায়।
জানা যায়, প্রায় ৩৫০ বছর আগে চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায়চৌধুরী চালু করেন এই কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। কিন্তু কেন এই কালী দৌড়? রয়েছে এক আশ্চর্য কাহিনী। জানা যায়, তখন মালতীপুর এলাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। মালতিপুর কালীবাড়ী লাগোয়া পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হত একাধিক কালী প্রতিমাকে।
চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য শুরু করেছিলেন এক প্রতিযোগিতা। দীপান্বিতা অমাবস্যার পরের দিন সন্ধ্যায় মালতিপুর বাজারে একটি কালী দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল এই দৌড়ে যার কালী প্রতিমা ঠিক থাকবে, সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালী দিঘিতে। সেই দৌড়ের রীতি আজও চলে আসছে।
রাজার প্রচলিত রীতি আজও চলছে মালতিপুরে। সোমবার সন্ধ্যায় মালতীপুরে আয়োজিত হল এই ঐতিহ্যবাহী কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। মালতিপুর এলাকার মোট আটটি কালীর দৌড় হয়েছে। এদের মধ্যে ছিলেন বুড়ি কালী, চুনকা কালী, বাজারপাড়া কালী, আম কালী, হ্যান্টা কালী, হাট কালী ও শ্যামা কালী।
পুজো কমিটির সদস্যরা ও এলাকার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে ছুটলেন ঘাটের দিকে। মালতিপুর বাজার এলাকা পরিক্রমা করে কালীকে নিয়ে আসা হয় মালতীপুর কালীবাড়ি লাগোয়া কালী দিঘিতে। অগণিত মানুষ ভিড় করেছিলেন সন্ধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications