ঘটনার চার দিন পরেও অধরা মূল অভিযুক্ত! শিলিগুড়ির জমির দখল রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে দিল পুলিশ
অবশেষে রামকৃষ্ণ মিশনের আবাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরিত করা হলো রামকৃষ্ণ মিশনকেই। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির সেবক রোডে সেবক আবাসনে ভক্তিনগর থানার পুলিশ রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তরিত করে।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির সেবক রোড এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের আবাসন সেবক ভবনে ১৯ মে রবিবার গভীর রাতে স্থানীয় জমি মাফিয়া প্রদীপ রায় ও তার দলবল হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় আবাসনে। পাশাপাশি সন্ন্যাসীদেরও অপহরণ করারও অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

ওই ঘটনায় পরের দিন ভক্তিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশনের তরফে। ঠিক একঘন্টার মধ্যেই হামলায় মূল অভিযুক্ত প্রদীপ রায়ও রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। এরপরেই পুলিশ আবাসনের গেটে তালা ঝুলিয়ে।
পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভোটপ্রচারে এই রাজ্যে এসে তিনিও ওই ঘটনা তুলে ধরেন। সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কারণ রামকৃষ্ণ মিশনের আবাসিকদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারা লাগু করেনি।
পরবর্তী সময়ে বুধবার পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে না পারলেও এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। হামলায় মূল অভিযুক্ত প্রদীপ রায় ওই জমি তাঁর বলে দাবি করলেও, পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে জমিটি কোনওভাবেই প্রদীপ রায়ের নয়। তারপরেই পুলিশের তরফে আবাসনটি রামকৃষ্ণ মিশনকে হস্তান্তর করা হয়।
শিলিগুড়ির সেবক রোডের শালুগাড়ায় অবস্থিত সেবক হাউস এক ভক্ত সুনীলকুমার রায় রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষকে দান করেছিলেন। পরবর্তী কালে ওই জমির মালিকানা নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে মামলা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ওই জায়গায় বসবাস করে আসছেন রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সহ অন্য আবাসিকরা। অভিযোগ রবিবার রাতে এলাকার এক জমি মাফিয়া ও প্রায় ত্রিশ চল্লিশজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই এসাকায় ঢুকে তা দখল নেওয়ার চেষ্টা করে।












Click it and Unblock the Notifications