কলমটাই কেবল হাতে ধরতে পারে, উচ্চ মাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ নম্বর বালুরঘাটের পায়েলের
শরীরে প্রতিবন্ধকতা গ্রাস করে রেখেছে। নিজে কোনও কাজ করতে পারে না। হাঁটতে পারে না। হাত দিয়ে ভারী কিছু করতে পারে না৷ কেবল হাত দিয়ে কলম ধরে লিখতে পারে। ব্যাস, তাতেই সাফল্য। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য। ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে পায়েল পাল।
সব কাজ করতেই মাকে প্রয়োজন হয়। মা ও বাবা ছাড়া আর কেউ তার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার হলে কোলে করে মা রোজ পৌঁছে দিয়েছেন। কারণ, পায়েল নিজে হাঁটলে পর্যন্ত পারে না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা শরীরকে ৮০ শতাংশ গ্রাস করেছে।

প্রতিবন্ধীকতা জয় করে উচ্চ মাধ্যমিকে অভাবনীয় ফল বালুরঘাটের কামারপাড়ার পায়েল পালের। ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে সে ৪৬০ নম্বর পেয়েছে। মায়ের কোলে চেপেই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল পায়েল। ফল প্রকাশের পর তাক লাগিয়েছে পায়েল। এবারে সে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।
বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা পায়েল পাল। জন্ম থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেও এখনও তার উচ্চতা একটি ছোট্ট শিশুর মতোই। শরীরে একাধিক সমস্যা বাসা বেঁধে আছে।
কোমরের নীচ থেকে কার্যত অসাড়। নিজে স্নান করতে পারে না। সামান্য চলাফেরা, খাবার খাওয়ার জন্য মায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। জিনিস তোলা দূরস্ত। সরু ও রুগ্ন হাত দিয়েও ভারী কাজ করতে পারে না। শুধু কোনওরকমে কলম চালাতে শিখেছে। আর তাতেই বাজিমাত।
আগামী দিনে ব্যাঙ্ক কর্মী হতে যায় পায়েল। আপাতত ভূগোল নিয়ে স্নাতকোত্তরে পড়তে চায় সে। মেয়ের সাফল্যে আনন্দিত বাবা - মা। কিন্তু দুশ্চিতাও যে গ্রাস করছে। উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার কোথা থেকে আসবে? মেয়েকে কলেজে নিয়ে যাবেন কী করে? তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় তার বাবা মা।
বাবা দীগেন পাল কখনও অসহায় হয়ে পড়েন। তারপর আবার এই যুদ্ধ শুরু করেন। তবে দুশ্চিন্তার ছায়া ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। কারণ, মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে রয়েছে ওই পরিবার।
এখন মেয়ের ভালো কলেজে পড়াশোনার খরচ চালানো কীভাবে যাবে? তাই নিয়ে রাতের ঘুম ছুটেছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন পায়েল বাবা মা।












Click it and Unblock the Notifications