মালগাড়ির চালক কি লাল সিগন্যাল দেখতে পাননি? কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের এত বড় দুর্ঘটনা হল কীভাবে?
পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। সোমবার সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে এসে ধাক্কা মারে মালবাহী ট্রেন। কিন্তু এক লাইনে কীভাবে দুটি ট্রেন চলে এল? সেই প্রশ্ন উঠছে। সিগন্যালের সমস্যা না কী রেল কর্মীদের গাফিলতি? মৃত্যুর সংখ্যা একের পর এক বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে এই মুহূর্তে রেল পরিষেবা বিচ্ছিন্ন দক্ষিণবঙ্গের।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এক লাইনে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ও পণ্যবাহী গাড়িটিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে মালগাড়ির সিগনাল লাল ছিল বলে খবর। সম্ভবত এই সিগনাল দেখতে পাননি মালগাড়ির চালক। সে কারণেই তিনি ট্রেন থামাননি। সোজাসুজি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে এসে ধাক্কা মারে ওই গাড়ি।

ওই রেলপথটি স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যন্ত ব্যস্ত রেলপথ। সমান্তরাল লাইন বলে পরিচিত। অর্থাৎ অন্যান্য ট্রেনের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা বেশি। তারপরেও কীভাবে ঘটল এত বড় দুর্ঘটনা? সেই প্রশ্ন উঠছে। মালগাড়ির চালক মারা গিয়েছেন দুর্ঘটনার পরেই। এই কথা জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রাঙাপানি স্টেশনের কাছে সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিগন্যাল পায়নি। ওই লাইনে মালগাড়িও আসছিল। সেটির সিগন্যালও লাল ছিল বলে খবর। কিন্তু কোনও কারণে চালক সেই সিগন্যাল দেখতে পাননি। বৃষ্টির আবহাওয়া সকাল থেকেই রয়েছে। সে কারণেই কি সিগন্যাল চোখে দেখা যায়নি? প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রথমে এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ছাড়ার কথা ছিল। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পেরিয়ে গেলে তারপর মালগাড়িটি এগোত লাইন ধরে। সিগন্যাল না দেখার কারণেই কি সব কিছু ওলোট-পালোট হয়ে গেল? প্রশ্ন উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বরাবর রেল ব্যবস্থার উন্নতির কথা দাবি করে এসেছেন। রেল পরিষেবাকে আরও ঢেলে সাজানোর বার্তা দিয়েছেন। আধুনিক মানের সিগন্যাল ব্যবস্থা ও রেল ইঞ্জিন ব্যবহারের কথা শোনা গিয়েছে। তারপরেও কীভাবে রেল দুর্ঘটনা হল? সেই প্রশ্ন উঠছে।
ইঞ্জিনের সামনে কোনও বস্তু চলে এলে আগাম সংকেত পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট দূরত্বে সেই ইঞ্জিন গিয়ে থেমে যায়। আধুনিক মানের রেল ইঞ্জিন গুলিতে এই পরিষেবা যুক্ত করা হয়েছে। তাহলে মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন কেন থামল না? সামনে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। সেই বিষয়টি কেন বুঝতে পারলেন না মালগাড়ির চালক? এই প্রশ্ন উঠছে।
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হবে। রেলের তরফ থেকে এই কথা শোনা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন। তিনিও গোটা ঘটনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। আহতের সংখ্যাও বাড়ছে একই সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications