Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

তাপপ্রবাহে মাঠেই শুকিয়েছে ফসল, জেলায় জেলায় ব্যাপক ক্ষতি! সাহায্য না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারের বিরুদ্ধে

একদিকে চলেছে ভোট, অন্যদিকে রাজ্যের একের পর এক জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ। নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসন ব্যস্ত। তারই মধ্যে তীব্র অসুবিধার সম্মুখীন কৃষকরা। অনেক জেলাতেই মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জল-বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে ভুট্টা-পাট-সহ অনেক ফসল।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা জুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। জেলার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এই তাপপ্রবাহের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার কৃষকরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মোট ৮ টি ব্লক রয়েছে-বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, তপন, কুশমন্ডি, হিলি, কুমারগঞ্জ, বংশীহারী এবং হরিরামপুর। সব ব্লকের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন মাঠে শস্য বলতে রয়েছে বোরো ধান, পাট এবং ভুট্টা।

Summer

  • কৃষকদের আশঙ্কা

দীর্ঘ একমাস বৃষ্টি না হওয়ায় এবং তাপপ্রবাহের ফলে পাট ও ধান চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুট্টা চাষেরও সেই একই রকম অবস্থা। জলের অভাবে বিঘার পর বিঘার পাট শুকিয়ে হলুদ হয়ে গিয়েছে। ধানেরও অবস্থা সেইরকমই। আগামী কয়েকদিন এরকম অনাবৃষ্টি এবং দাবদাহ চলতে থাকলে মাঠে কোনও ফসল থাকবে না বলে আশঙ্কা কৃষকদের।

বালুরঘাট ব্লকের কৃষক বাবলু মাহাতো বলেন, 'অনাবৃষ্টি এবং খরার কারণে বিঘার পর বিঘা পাট পুড়ে যাচ্ছে। জমিতে কোনও জল নেই। পাট হলুদ হয়ে গিয়েছে। জলসেচের মাধ্যমে চাষ করার চেষ্টাও বৃথা গিয়েছে, কারণ জলস্তর নিচে নামার ফলে জল উঠছে না। আর এর ফলে জমিতেও জল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ধান চাষেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানের জমি জলের অভাবে ফেটে গিয়েছে।

সরকার সাহায্য করতে এগিয়ে না আসলে কৃষকদের দুবেলা দুমুঠো খাবার সংগ্রহ করা এবার সম্ভব হবে না। ২০১৭ সালের পর রাজ্য সরকার কৃষকদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল। এবারও কৃষকরা সরকারের কাছে সাহায্যের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যথায় তাঁদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না, বলেও জানিয়েছেন।

  • দেখা নেই সরকারি আধিকারিকদের

তপন ব্লকের কৃষক নেপাল মাহাতো সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে তার সমস্ত পাট নষ্ট হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'অনেক আশা করে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সব পাট নষ্ট হয়ে গেছে। ধান চাষেরও সেই একই অবস্থা। কয়েক বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। কিন্তু জলের ব্যবস্থা না করতে পারার জন্য তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অবস্থা এমনই যে সারা বছর খাবার জন্য যে ধান লাগে সেটাও এবার আর যোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদেরও কোন দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।

বালুরঘাট ব্লকের আরেক কৃষক প্রবিতা মাহাতো বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে পাট গাছে পোকা লেগে গিয়েছে। পোকা মারার বিষ দেওয়ার পরে সেগুলোকে বাঁচাতে বৃষ্টির প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা না করতে পারার জন্য পাটগাছগুলো নেতিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কয়েক বিঘা জমির পাট মরে গিয়েছে। কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন কৃষকরা।

বালুরঘাট ব্লকের আরেক কৃষক নেপাল টিগ্গা বলেন, ধান ও পাট গাছের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছেন পাট ক্ষেত সাদা হয়ে আছে। জল নেই। বৃষ্টি না হলে কৃষকেরা আত্মহত্যা করবে। সরকারের উচিত কৃষকদের সাহায্য করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কৃষি দপ্তরের কেউ তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

  • কী বলছেন জেলা কৃষি আধিকারিক?

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষি আধিকারিক প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও তীব্র তাপদাহ চলছে এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তার ব্যতিক্রম নয়। এখন ক্ষেতে ফসল বলতে বোরো ধান, পাট এবং ভুট্টা রয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার জন্য কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি দফতর সারা জেলা জুড়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তিনি বলেন, পাট চাষ পুরোটাই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি দপ্তরের তরফ থেকে সারা জেলা জুড়ে কৃষকদের এই সময় কী করতে হবে এবং কী করতে হবে না, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, ২০২৪ সাল থেকে পাট চাষের ক্ষেত্রে সরকার বিমা চালু করেছে। এর জন্য পাট চাষীদের নাম নথিভুক্তকরণের কাজ চলছে। পাট চাষীদের সরকার বলেছে, যাঁরা যে ব্লকের বাসিন্দা তাঁরা সেই ব্লকের এডিও অফিসে তাদের নাম যেন নথিভুক্ত করেন। এই নথিভুক্তিকরণের কাজ চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+