বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, ফের কি গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে উত্তপ্ত হবে পাহাড়

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জিটিএ চুক্তি প্রত্যাহারের পিছনে পাহাড় নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল।

জিটিএ চুক্তি প্রত্যাহারের কথা ফলাও করে ঘোষণা করেছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। শুক্রবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জিটিএ চুক্তি থেকে সই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই যে প্রশ্নটা সবথেকে বেশি করে উঠছে, তা হল- আবারও কি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে পাহাড়?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, গোর্খাল্যান্ড ইস্যু খাঁড়া করে ফের এখবার পাহাড় অচল করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জিটিএ চুক্তি প্রত্যাহারের পিছনে পাহাড় নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূলও। তৃণমূল মনে করছে, পাহাড়ে বিজেপি পরিচালিত করছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে।

বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা!

পাহাড়ের রাজনীতিতে সমর্থন খুইয়ে ফের অশান্তির আশ্রয় নিতে চাইছে কেউ কেউ। আর রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পাহাড়ে ইন্ধন দিয়ে চলেছে বিজেপি। তা না হলে হঠাৎ করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এমন একটা সিদ্ধান্ত নেবে কেন? কেননা রাজনৈতিক মহল মনে করছে জিটিএ চুক্তি প্রত্যাহারের কোনও প্রভাবই পড়বে না জিটিএ-র উপর। নিছকই অনা্স্থার বাতাবরণ তৈরি করে ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনকে তীব্রতর রূপ দেওয়ার একটা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় এটা।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অভিযোগ ছিল, জিটিএ পাহাড়ের জন্য কোনো উন্নয়নমুলক কাজ করেনি, তাই জিটিএ চুক্তি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন তাঁরা। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েও দিয়েছেন।

শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা রোশন গিরি জানানোর পরই রাজনৈতিক মহলে কড়া প্রতিক্রিয়া শোনা গিয়েছে। শুধু তৃণমূলই নয়, মুখ খুলেছেন সিপিএম নেতারাও। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, জিটিএ-র উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অশোক ভট্টাচার্যের কথায়, এটা কখনও হয় না। একবার একটা চুক্তিতে সাক্ষর হয়ে গেলে তা অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হয়ে যায়। কেউ তার বক্তব্য রাখতে পারে। তবে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে না৷

বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা!

অন্যদিকে তৃণমূল নেতা তথা মেয়র গৌতম দেব বিষয়টিকে কোনো আমল দিতে নারাজ। তাঁর আবার অভিযোগ অন্য। তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্র সরকার এ ধরনের গেমপ্ল্যান করছে। বিজেপি চাইছে গোর্খাল্যান্ড আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু দলকে ইন্ধন দিয়ে পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করতে। এসবই ২০২৪-এর ভোটের জন্য গেমপ্ল্যান বলে তাঁর যুক্তি।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির বক্তব্য, "আমরা আমাদের সই প্রত্যাহারের মাধ্যমে সমর্থন উঠিয়ে নিলাম। এর পরে আগামীদিনে এই জিটিএ-এর ভাগ্য সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। আমাদের কোনও দায় থাকবে না।"

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার এই সিদ্ধান্তের পর আশঙ্কা থেকেই যায়, পাহাড় ফের উত্প্ত হয়ে উঠবে না তো! কারণ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ফের জোটবদ্ধ হচ্ছে পাহাড়ের দলগুলি। বিমল গুরুং, বিনয় তামাং, অজয় এডওয়ার্ডরা একটি কমিটি তৈরি করেছেন। তাঁরা গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে ফের আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইছেন বলে ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+