গায়ে মাখলেন না বিরোধীদের অভিযোগ, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব
এটা রাজনীতির সময় নয়। উদ্ধারকাজ ও রেলপথ ফের চালু করা। এই দুই এখন প্রধান কাজ। উত্তরবঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে এসে সেই কথাই বললেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আজ সোমবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।
জলপাইগুড়ি জেলার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে সরাসরি দ্রুত গতিতে এসে ধাক্কা মারে একটি মালবাহী ট্রেন। মালগাড়ির চালক ও কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড দুজনেই মারা গিয়েছেন। মালগাড়ির ইঞ্জিনের উপরে উঠে গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের বগি।

উদ্ধারকাজ দুপুরের পরে শেষ হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বাগডোগরায় পৌঁছে যান দুপুরের মধ্যেই। এরপর তিনি দুর্ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। রাজু সকাল থেকেই ওই এলাকায় রয়েছেন। উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখেছেন বিজেপি সাংসদ।
সকালেই রেলমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করেছিলেন। দুর্ঘটনার তদন্ত হবে। এই কথাও জানিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন তিনি৷ সোমবার দুপুরের পরেই শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন রেলমন্ত্রী। সেখান থেকে যান অকুস্থলে।
দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। এখন প্রথম ও প্রধান কাজ হল সব কিছু খতিয়ে দেখা। রেললাইন আবার ঠিক করে ট্রেন চলাচল শুরু করা। এই কথা জানালেন রেলমন্ত্রী। উদ্ধার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? সে বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হবে। এই কথাও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রকের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। বিজেপির আমলে রেল মন্ত্রক তেমন কিছুই কাজ করেনি। কেবল ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ট্রেনের। বেসরকারিকরণের দিকে রেল হেঁটেছে। যাত্রী সুরক্ষার দিকে কোনও নজর দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ বিরোধীরা করছেন। রাহুল গান্ধী রেলমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। বিরোধীরা রেলমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানেও মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের রেল দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যদিও বিরোধীদের বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানিয়েছেন, এখন রাজনীতি করার সময় নয়। দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে তিনি হাসপাতালে যাবেন। সেখানে জখমদের সঙ্গে কথা বলবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন। রেল মৃত ও আহতদের জন্য ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications