হেরে গেলেন প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যও, গৌতম দেবের জয়ে শিলিগুড়িতেও ‘পরিবর্তন’
হেরে গেলেন প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যও, গৌতম দেবের জয়ে শিলিগুড়িতেও ‘পরিবর্তন’
২০১১-য় রাজ্যে পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু শিলিগুড়ি ছিল অবিচল। শিলিগুড়িতে বামেরা হারেনি। কংগ্রেস-তৃণমূল মিলে শিলিগুড়ি পুরসভা একবার দখল করতে সমর্থ হলেও পরে অশোক ভট্টাচার্যের তৈরি শিলিগুড়ি মডেলে ধরাশায়ী হয় তৃণমূল। কিন্তু ২০২১-এর পর থেকে কিন্তু শিলিগুড়িতেও বদল ঘটতে শুরু করেছিল। ২০২২-এর পুরসভায় তৃণমূল উলটপুরান ঘটিয়ে দিল শিলিগুড়িতে।

বিধানসভার পর অশোকরে হার পুরসভাতেও
শিলিগুড়ি পুরসভা ভোটের ফলাফলে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় এই যে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেরে গেলেন অশোক ভট্টাচার্য। ২০২১-এ বিজেপি প্রার্থী 'শিষ্য' শঙ্কর ঘোষের কাছে হারতে হয়েছিল অশোক ভট্টাচার্যকে। তারপর শিলিগুড়ি পুরসভাকে তিনি পাখির চোখ করেছিলেন। প্রথমে এবার নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু পরে মতবদল করেন।

সবুজ ঝড়ে উধাও লাল, ফিকে গেরুয়াও
এবার কিন্তু অশোক ভট্টাচার্য তাঁর পয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকেও জিততে পারলেন না। হেরে গেলেন তৃণমূলের কাছে। একইসঙ্গে তিনি বোর্ড খোয়ালেন তৃণমূলের কাছে। শিলিগুড়িতে সবুজ ঝড়ে একইসঙ্গে লালের বিনাশ হল, ধূলিসাৎ হয়ে গেল গেরুয়ার। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এখানে সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে সরিয়ে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেখানে ফিকে হয়ে গেল গেরুয়া রং।

সব হিসাব উল্টে শিলিগুড়ি পুরসভায় জয়ী তৃণমূল
বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে শিলিগুড়ি পুরসভায় ভোটে ৪৭টির মধ্যে ৩৬টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। ফলত বিজেপি আশাবাদী ছিল শিলিগুড়ি পুরসভা এবার তারা দখল নিতে পারে। আবার বামেরা আত্মবিশ্বাসী ছিল, ফের তাঁরা গুরুত্ব ফিরে পাবে এবং শিলিগুড়ি দখলে রাখতে সমর্থ হবে। কিন্তু সেই সব হিসাব উল্টে দিল তৃণমূল।

আবার জিতে গুরুত্বের আসনে ফিরলেন গৌতম
শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনেও এবার সবুজ ঝড় উঠল। আগের সমস্ত ভোটের ফলাফলকে ম্নান করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে গেল তৃণমূল। এমনকী এই ঝড়ে অশোক ভট্টাচার্য হারলেন। আবার জিতে গুরুত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হলেন গৌতম দেব। তিনি এবার মেয়র হতে চলেছেন শিলিগুড়ি পুরসভায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘোষণা করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

শিলিগুড়ির পরবর্তী মেয়র মনোনীত গৌতম
গৌতম দেবও অশোক ভট্টাচার্যের মতো হেরে গিয়েছেন ২০২১-এর নির্বাচনে। তিনি এবার শিলিগুড়ি পুরসভার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। নিজের জয়ের সঙ্গে দলকে জয় এনে দিয়ে তিনি ফের হারানো গুরুত্ব ফিরে পেলেন। এবং শিলিগুড়ির পরবর্তী মেয়র মনোনীতও হয়ে গেলেন। কারণ জয়ের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘোষণা করে দিয়েছেন।

তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে প্রতিক্রিয়া অশোকের
অশোক ভট্টাচার্য হারলেন বিধানসভার পর পুরসভা নির্বাচনেও। তিনি সেই হার মেনে নিয়েই জানালেন, মানুষ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। শিলিগুড়ির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আলম খানের কাছে তিনি ৫১০ ভোটে হারেন। হারের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, একটা বিপর্যয় হয়েছে। আমাদের যে ভোট বিজেপিতে গিয়েছিল, সেই ভোট ফিরে আসার বদলে ঢুকে গিয়েছে তৃণমূলের বাক্সে। আমাদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ।

ভোটে হেরে কী বললেন প্রাক্তন মেয়র
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এই পরাজয়ের কারণ পর্যালোচনা করতে হবে। এটা রাজনৈতিক বিপর্যয় বলতে পারেন। তবে বোটে তো হারজিৎ থাকে। মেনে নিতে হবে। আবার সবকিছউ নতুন করে শুরু করতে হবে। শিলিগুড়ি পুরসভার মানুষ তৃণমূলকে বেছে নিয়েছে। তাদের অভিনন্দন। শিলিগুড়ি পুরসভার মানুষের উন্নয়ন হোক এটাই চাই।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনের ফলাফল
শিলিগুড়ির ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৭টির ফলাফলই সামনে চলে এসেছে। সেই প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল ৩৭টি ওয়ার্ডে এগিয়ে। বিজেপি পাঁচটি আসনে এগিয়ে এবং বামেরা চারটি ও কংগ্রেস একটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল প্রবণতাতেই স্পষ্ট তৃণমূলের জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বামেরা অবশ্য ভোট শতাংশে বিজেপির থেকে এগিয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই তাঁরা দু-নম্বরে রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications