রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আলিপুরদুয়ার! অতিবর্ষণে ভেঙেছে নদীবাঁধ, বন্ধ সড়ক যোগাযোগ
আলিপুরদুয়ারে রেকর্ড বৃষ্টি। গত ২৪ ঘন্টায় আলিপুরদুয়ারে ২৩০.২০ মিলিমিটার, হাসিমারায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একদিকে ভূটান পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারে অতিবর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। কালজানি ছাড়াও ডিমা, সংকোশ ও রায়ডাক নদীতে জল বাড়ছে।
আলিপুরদুয়ার পুরসভার দ্বীপচর, ১৮, ১৫, ৮, ৯, ৫ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে জল জমে গিয়েছে। বিপর্যস্ত অবস্থা দ্বীপচর এবং ১৫ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের। অধিকাংশ বাড়ি জলমগ্ন। জেলার কালজানি-সহ অন্য নদীগুলিতে জল বাড়ছে। ইতিমধ্যে সেচ দফতর থেকে আলিপুরদুয়ারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

আলিপুরদুয়ার পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোনাই নদীর বাঁধ অতিবর্ষণে ভেঙে গিয়েছে। নদীর জল যে হারে বাড়ছে তাতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মাম্পি অধিকারী বলেন, বৃষ্টিতে নোনাই বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। সেচ দফতরকে বলা হয়েছে। শাপাশি জানানো হয়েছে মহকুমা প্রশাসনকেও। অবিলম্বে ওই এলাকার বাঁধ মেরামতির দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শনও করেছেন।
আলিপুরদুয়ার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম মণ্ডল বলেন, কালজানি নদীর জল বাড়ছে। তার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০০ পরিবার। ইতিমধ্যে ফ্লাড সেন্টার খোলা হয়েছে। নদীতে জল বাড়লে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে সেচ দফতরের এক কর্মী জানিয়েছেন কালজানি নদীর জল বাড়ছে। সতর্ক রয়েছে সেচ দফতর। ঘন্টায় ঘন্টায় জলের মাপ নেওয়া হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর জানিয়েছেন, শহরে ওয়ার্ড গুলিতে ৮ টি পাম্প রাখা হয়েছে। জল বেড়ে গেলে তা বাইরে পাম্পের সাহায্যে বের করে দেওয়া হবে। শহরবাসীর আশঙ্কা বৃষ্টি না থামলে পাম্প চালিয়ে লাভ হবে না।
এদিকে চরতোর্সায় জল বেড়ে যাওয়ায় আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। বালুরঘাটে চরতোর্সার ডাইভারশন-এর ওপর দিয়ে জল বইছে। ফলে ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার যোগাযোগ বন্ধ। আলিপুরদুয়ার থেকে পুন্ডিবাড়ি হয়ে ঘুরপথে চলছে বাস।
১৯৯৩-এর ভয়াবহ বন্যায় চরতোর্সার ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার পর আর ব্রিজ তৈরি হয়নি। তৈরি করা হয়েছিল একটি ডাইভারশন। সেই ডাইভারশন দিয়েই যোগাযোগ বজায় ছিল। অন্যদিকে, কাঁঠালবাড়ি এলাকায় একটি ব্রিজের অবস্থা খারাপ। রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। বিপাকে সাধারণ মানুষ।
এদিকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবারের পরে সোমবার ও মঙ্গলবারেও সেখানে অতিবৃষ্টি হবে। যে কারণে আপাতত মঙ্গলবার পর্যন্ত জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারেও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications