শুক্রবার প্রথম দফা, বাংলার নদী-পাহাড় পেরিয়ে ভোট কেন্দ্রে কর্মীরা! যোগাযোগের ভরসা স্যাটেলাইট ফোন
রাত পোহালেই সারা দেশের সঙ্গে বাংলাতেও প্রথমদফার নির্বাচন। তিনটি আসনে ভোটের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে ভোটকর্মীরা রওনা হয়ে যান বেশ কিছুটা আগেই। নৌকোয় করে রায়ডাক নদী পেরিয়ে কুমারগ্ৰাম ব্লকের জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে ওনা দেন ভোটকর্মীরা। ভোটকর্মীরা যান বক্সা পাহাড়ের উদ্দেশেও। সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে ৩৬ টি বুথ রয়েছে দুর্গম এলাকায়।
কুমারগ্ৰাম ব্লকের ১০/৬২ বুথ জয়দেবপুর। ওই এলাকায় ভোটার সংখ্যা ৪২১। নৌকোতে রায়ডাক নদী পেরিয়ে ভোট কর্মীরা বুথের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের অধীন বক্সা পাহাড়ে রয়েছে তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। সেখানকার ভোটকর্মীরাও হাতে সময় নিয়ে বৃহস্পতিবার রওনা হয়ে যান।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, সমতল থেকে প্রায় ২৬০০ ফুট উঁচুতে বক্সা পাহাড়ে তিনটি বুথ রয়েছে। ট্রেকিং করে আদমা, চুনাভাটি ও বক্সাদুয়ার ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে যেতে হয়। এই তিনটি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দেড় হাজারের ওপর। সেখানে ফোন-এর ব্যবস্থা নেই। পুলিশ ও বনদফতর-এর আরটি সেট যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এবার এই তিনটি বুথের জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আলিপুরদুয়ার জেলার রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রত্যন্ত এলাকা বক্সাদুয়ার। সেখানে যেতে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিআরসি থেকে দুপুরের আগেই ভোটকর্মীরা ওই তিনটি বুথে যেতে ট্রেকিং শুরু করেন। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা। বক্সা পাহাড়ে মূলত ডুকপা ও নেপালি সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করেন। তারা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন সে ব্যাপারে ততপর প্রশাসন।
এক ভোটকর্মী জানিয়েছেন, ভালই লাগছে, কালচিনি ব্লকের দুর্গম এলাকায় যাচ্ছেন ভোটগ্রহণ করাতে। একটা নতুন অভিজ্ঞতা। পায়ে হেঁটে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া তাঁর জীবনে প্রথম বলে জানিয়েছেন ওই ভোটকর্মী।
তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, মেঘালয়ের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতে ভোট কর্মীদের পায়ে হেঁটে পেরোতে হয়েছে ১২ কিমি। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডের একটি বুথে চার ভোটারের জন্য ছয় ভোটকর্মী গিয়েছেন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে।












Click it and Unblock the Notifications