তৃণমূলের নেতৃত্ব-বিরোধ তুঙ্গে মুর্শিদাবাদে, পঞ্চায়েতের মুখে মমতার অস্বস্তি বাড়ছে অধীর-গড়ে
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর থেকে মুর্শিদাবাদে ঠোক্কর খেয়েই চলেছে তৃণমূল। একের পর এক ধাক্কায় ক্রমশই বেসামাল হতে শুরু করেছে অধীর-গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের গতিবিধি। তা না হলে প্রকাশ্যে এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা যায়!
সাংবাদিক বৈঠকে জেলা সভানেত্রীর সঙ্গে জেলা চেয়ারম্যানের সরাসরি বিরোধে বিপাকে তৃণমূল। রাজ্য তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়েছে নবাব-গড়ে দুই নেতা-নেত্রীর বিরোধ সামনে চলে আসায়। এমনকী বিরোধ এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে জেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।

বুধবার মুর্শিদাবাদ তৃণমূল নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করতে এক সাংবাদিক বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সাংবাদিক বৈঠকে জেলা কমিটির মনোনীত তালিকা হাতে পেয়েই গর্জে ওঠেন জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান আবু তাহের খান।
আবু তাহের বলে ওঠেন, এই জেলা কমিটি তৈরি করতে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। নিজের খেয়ালখুশি মতো জেলা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা তাঁর পক্ষে অনুমোদন করা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় তাঁর অভিযোগের তির তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভানেত্রী শাওনি সিংহ রায়ের দিকে।
আবু তাহের এই সাংবাদিক বৈঠকে থাকতেই চাননি। তিনি সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে উঠে চলে যান। পাশের ঘরে তিনি অপেক্ষা করেন। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি জেলা কমিটির নতুন তালিকা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, রাজ্য নেতৃত্বকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিকে জেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে জেলা সভানেত্রী শাওনি সিংহরায় বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের অনুমোদন নিয়েই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তা নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সাংবাদিক বৈঠকে শাওনির পাশে ছিলেন বিধায়ক ইদ্রিশ আলি।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে নানা অন্তর্দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসছে। নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ সামনে চলে আসছে। বিশেষ করে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসেপর গৃহযুদ্ধ প্রকট হতে শুরু করেছে। এমনকী অনেক নেতা-নেত্রীর কংগ্রেস-যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে।

সাগরদিঘিতে হারের পর তো তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সাংসদদের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন। সাংসদরা কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও পরে তিনি সাংসদদের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগকে অপব্যাখ্য করা হয়েছে বলে জানান।
তৃণমূলকে একত্রিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারপর নিজে নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। মুর্শিদাবাদ যাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জেলা কমিটি গঠন নিয়ে যেভাবে নেতৃত্বের বিরোধ সামনে এল তাতে হাতে অস্ত্র পেয়ে গেল বিরোধীরা। বিশেষ করে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্ব কংগ্রেস এই জেলায় ফেরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে।












Click it and Unblock the Notifications