Panchayat Board: আজব সমীকরণ! সিপিএমের সমর্থনে তৃণমূলের প্রধান, বিজেপির উপপ্রধান কৃষ্ণনগরে
মজার সমীকরণ। জেলায় জেলায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে অদ্ভুত সব সমীকরণ সামনে আসছে। নদিয়ায় কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের প্রধান ও বিজেপির উপপ্রধান নির্বাচিত হল সিপিএমের সমর্থনে। পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।
বহু ক্ষেত্রেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট হচ্ছে। কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি, এমনকী নির্দল প্রার্থীরা একজোট হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত বোর্ড গড়ছে। কিন্তু নদিয়ার কৃষ্ণনগর ১ নম্বর ব্লকের রুইপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতে যা ঘটল, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচিত্র্য সমীকরণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু বোর্ড গঠন করতে পারল না তারা। তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে সুযোগ চলে এল বিরোধীদের কাছে। আর সেই সুযোগ নিয়ে বিজেপি ও সিপিএম বোর্ড গঠন করে ফেল বিক্ষুব্ধ তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে।
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ এক প্রার্থীকে প্রধান দাঁড় করিয়ে তারা মাত দিল কৃষ্ণনগরের এই পঞ্চায়েতে। বিজেপি থেকে উপপ্রধান করা হল। সংখ্যার খেলায় তৃণমূলকে দিয়েই তৃণমূলকে মাত দিয়ে বোর্ড গঠনে সমর্থ হয় বিরোধীরা। এখানে বিরোধী বলতে বিজেপি ও সিপিএম। যদিও এটিকে জোট বলতে নারাজ বিজেপি ও সিপিএম উভয়েই।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ২২। তৃণমূল একাই ১৩টি আসমে জয়ী হয়। বিরোধীরা পায় মাত্র ৯টি আসন। তার মধ্যে বিজেপি সাতটিটে জয়ী হয়েছে, সিপিএম দুটিতে। বিরোধীদের সে অর্থে কোনও আশাই ছিল না এই পঞ্চায়েতে। কিন্তু তখনও চমক বাকি ছিল।

এক সদস্যের মৃত্যুতে তৃণমূলের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২। পঞ্চায়েত প্রধান পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল তৃণমূলে। তৃণমূলের তরফে প্রধান পদে প্রস্তাব করা হয় ইনার আলি শেখের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অনুপ বিশ্বাস। গোপন ব্যালটে ভোটাভুটিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ভোট পান ১২টি। আর অফিসিয়াল প্রার্থী ভোট পান ৯টি।
হিসেব বলছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর অনুপ বিশ্বাস বিজেপির সাত, সিপিএম দুই ছাড়াও তৃণমূলের তিনজনের ভোট পেয়েছেন। ফলে প্রধান নির্বাচিত হন অনুপ বিশ্বাস। উপপ্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির সুপ্রিয়া মণ্ডল। তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বোর্ড হাতছাড়া হয় এক্ষেত্রে।












Click it and Unblock the Notifications