শুধু অভিজাত বনাম রাজকীয় নয়, কৃষ্ণনগরের নির্বাচনী লড়াইয়ে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
কৃষ্ণনগরে তৃণমূল এবারও প্রার্থী করেছে মহুয়া মৈত্রকে। সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হলেও সেই প্রভাব অন্তত প্রচারে এখনও পর্যন্ত পড়েনি। তাঁকে দেখতে এখনও ভীড় করছেন গ্রামের মানুষ। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে, কৃষ্ণনগরে রানি মা অমৃতা রায়কে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হচ্ছে।
অমৃতা রায় সমগ্র কৃষ্ণনগর সংসদীয় এলাকার মানুষের কাছে রাজনীতিক হিসেবে অপরিচিত মুখ। তবে কৃষ্ণনগরের অনেকের কাছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের বংশধরের স্ত্রী হিসেবে চেনেন। যাঁর নামে শহরের নামকরণ হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এবারের লড়াইকে মহুয়া মৈত্র এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই হিসেবে বর্ণনা করছেন। সেই লড়াইয়ে কংগ্রেস সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী এমএস সাদি রয়েছেন তৃতীয়স্থানে।

প্রার্থী বাছাই নিয়ে ক্ষোভ
আর প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। মহুয়া মৈত্রকে তৃণমূলের অন্দরমহলে অহংকারী বলেন অনেকেই। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তাঁর কোনও সময় ছিল না, এখনও নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামনে রয়েছেন বলে সবাই তাঁকে মেনে নিয়েছেন। আবার অন্য কারও না থাকলে নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য তাঁর নিজেস্ব সোশ্যাল মিডিয়ার দল রয়েছে।
বিজেপিতেও কম বেশি একই অবস্থা। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছটি বিজেপি দখল করলেও, পুরনো কাউকে প্রার্থী করতে পারেনি বিজেপি। যেই জায়গায় রানি মাকে বেছে নিতে হয়েছে। তাঁকে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা না চিনলেও, বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় মুসলিম ও মতুয়ারা
কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে ভোটে কোনও প্রার্থীর জয় পরাজয় নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মতুয়ারা এবং চাপড়া, পলাশি এবং নাকাশিপাড়া এলাকার মতো মুসলিম প্রধান এলাকার মানুষজন। মুসলিম প্রধান এলাকার মানুষজন বছরের পর বছর ধরে কখনও সিপিআইএম এবং কখনও কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে এসেছেন। তবে পরিস্থিতির বদল হয়েছে ২০১৯-এ।
সেখানকার মুসলিমদের একা বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে ভোট দিলেও, দলের নেতাদের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ। তাঁরা ক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারায়। তবে তাঁরা সবাই বাম প্রার্থীকে সমর্থন করবেন কিনা এখনও তা পরিষ্কার নয়।
অন্যদিকে কৃষ্ণনগর ও তেহট্ট এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে। সেখানকার গৌড়ীয় সমাজ এবং মতুয়াদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন গত বিধানসভা নির্বাচনে। এছাড়াও এবারের নির্বাচনে সেখানে বড় ফ্যাক্টর হল সিএএ। ফলে ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত।












Click it and Unblock the Notifications