বিপদসংকুল জিব্রাল্টার প্রণালী পার করার অভিজ্ঞতা শোনালেন ইংলিশ চ্যানেল জয়ী তেহরিনা নাসরিন
বিপদসংকুল জিব্রাল্টার প্রণালী পার করার অভিজ্ঞতা শোনালেন ইংলিশ চ্যানেল জয়ী তেহরিনা নাসরিন
আজ তিনি পরিচিত বাংলার জলকন্যা হিসেবে, বয়স ২৮, পেশায় আয়কর দফতরের কর্মী। ক্রিকেট-ফুটবলের মধ্যে পিছিয়ে পড়া তথাকথিক ছোট খেলার খোঁজ খবর যাঁরা রাখেন তাঁরা জানেন কথা হচ্ছে তেহরিনা নাসরিনকে নিয়ে। বুলা চৌধুরী, রেশমি শর্মা,রিচা শর্মার পর বাংলা থেকে চতুর্থ মহিলা সাঁতারু হিসাবে সদ্য জিব্রাল্টার প্রণালী জয় করেছেন তেহরিনা।

বুধবার হাওড়া রুরাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জিব্রাল্টার প্রণালী জয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তেহরিনা। জিব্রাল্টার চ্যানেল পার করার উদ্দেশ্যে ৯ অগস্ট স্পেনে পৌঁছেই জ্বর গায়ে ১১ অগস্ট জিব্রাল্টার প্রণালী পার করার জন্য রওনা দেন তিনি। স্থানীয় সময় সাড়ে দশটায় তিনি জলে নামেন স্পেনের তারিফা দ্বীপ থেকে। গন্তব্য আফ্রিকার মরক্কো। তারিফা থেকে মরক্কোর দূরত্ব প্রায় ১৫কিমি। এই পথ যেমন দুর্গম তেমনই রয়েছে অসাবধানতায় মৃত্যুর ঝুঁকি। তিনি জানান, এই পথ পার করতে তাঁকে সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা বাধার। সামুদ্রিক প্রবল ঢেউ এর সঙ্গে ছিল ভূমধ্যসাগরের তীব্র নোনতা জল ও আটলান্টিকের প্রবল ঠান্ডা জলের স্রোত।এই পথ দিয়েই বড় বড় কার্গো জাহাজও পরিবহন করে যার ফলে যেমন এই অংশটি জাহাজের তেল ভাসমান থাকে তেমনই জাহাজ চলাচলে বড় বড় ঢেউ-এর সৃষ্টি হয়। বড় জাহাজের ঢেউ এবং ভাসমান তেল দুর্গম পথকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। দুপুর ২:৩৩ মিনিটে এই দুর্গম পথ অতিক্রম মরোক্কোয় পৌঁছান বাংলার জলকন্যা। এই পথ পেরোনোর সময় জেলিফিস-সহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীর কারণে শরীরে চোটও পান তেহরিনা। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁর সামনে প্রাচীর সৃষ্টি করতে পারেনি।

বিশ্বে সাঁতারের অন্যতম কিংবদন্তি মাসিদুর রহমান বৈদ্যের ছাত্রী তেহরিনা ২০১৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয় করেন তিনি। এই জয় তিনি উৎসর্হ করেন তাঁর গুরু মাসুদুর রহমান এবং বাবা আফসার আহমেদকে। ইংলিশ চ্যানেল ছাড়াও দু'বার বাংলা চ্যানেল পার করেন তিনি। এর আগে জিব্রাল্টার প্রণালী পার করার জন্য ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ভিসার আবেদন করেও তা বাতিল হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তবে, শেষ পর্যন্ত নানা বাধাকে অতিক্রম করে আরও একটি রেকর্ড গড়েন বুলা চৌধুরিদের উত্তরসূরি। জিব্রাল্টার প্রণালী পার করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। এবার তিনি জয় করতে চান নর্থ আইরিস চ্যানেল এবং আমেরিকার ক্যাথেলিনা চ্যানেল।কিন্তু এই জয়ের স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অর্থাভাব। কোনও আর্থিক সাহায্য না পেলে এই স্বপ্ন যে স্বপ্ন-ই হয়ে থেকে যাবে তা এ দিন অকপটে স্বীকার করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications