Exclusive: টোকিও অলিম্পিকের সেমিতে সিন্ধুর জয়ের সম্ভাবনা কেমন জানালেন পদ্মশ্রী মধুমিতা

টোকিও অলিম্পিকে কাল ভারতের বড় দিন। বক্সিংয়ে পূজা রানি কিংবা তিরন্দাজিতে অতনু দাসের দিকে নজর তো থাকবেই। তবে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনে সিঙ্গলস সেমিফাইনাল কাল মহা-ম্যাচ। দ্বিতীয় বাছাই চাইনিজ তাইপের ২৭ বছর বয়সি তাই সু-ইংয়ের বিরুদ্ধে খেলবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় শাটলার, ষষ্ঠ বাছাই তথা রিও অলিম্পিকের রুপোজয়ী পিভি সিন্ধু। তাই বিশ্বের এক নম্বর, সিন্ধু বিশ্বের সাত নম্বর হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে সিন্ধু যেভাবে খেলছেন তাতে কালকের ম্যাচে তাঁর জয়ের ভালোই সম্ভাবনা দেখছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের আয়রন লেডি। ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা অর্জুন ও পদ্মশ্রীতে ভূষিত মধুমিতা বিস্ত গোস্বামী।

সিন্ধু বনাম তাই

সিন্ধু ও তাই পরস্পরের বিরুদ্ধে খেলেছেন ১৮ বার। তার মধ্যে চাইনিজ তাইপের তাই সু-ইং জিতেছেন ১৩ বার, ৫ বার জিতেছেন সিন্ধু। শেষ তিন পারস্পরিক সাক্ষাতেও এগিয়ে চাইনিজ তাইপের শাটলারই। তবে সিন্ধু রিও অলিম্পিকে রুপো জয়ের পথে হারিয়েছিলেন তাইকে, প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে। এবারের অলিম্পিকে চারটি ম্যাচে একটিও গেমে সিন্ধু হারেননি। তবে আজই কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলেও তাইল্যান্ডের রাচনোক ইন্থানোনের কাছে প্রথম সেট হেরেছেন তাই সু-ইং। সিন্ধু যেমন আজ দাপট নিয়ে জিতেছেন, সেখানে তাই সু-ইংকে জিততে হয়েছে বেশ ঘাম ঝরিয়েই। প্রথম গেম ১৪-২১-এ হারার পর বাকি দুটি গেম তিনি জেতেন ২১-১৮, ২১-১৮ ব্যবধানে। কাল অপর সেমিফাইনালটি হতে চলেছে অল-চিন সেমিফাইনাল। শীর্ষ বাছাই চিনের চেন ইউফেই খেলবেন নিজের দেশেরই এবারের অলিম্পিকে অষ্টম বাছাই হে বিংজিয়াওয়ের বিরুদ্ধে।

সিন্ধুর খেলায় খুশি

সিন্ধুর খেলায় খুশি

সাইনা নেহওয়াল, পিভি সিন্ধু, কিদাম্বি শ্রীকান্ত থেকে শুরু করে দেশের তাবড় শাটলারদের প্রতিভা বিকাশের পিছনে অবদান রয়েছে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের আয়রন লেডি বঙ্গতনয়া মধুমিতা বিস্ত গোস্বামীর। খুব কাছ থেকে সকলকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে ওয়ানইন্ডিয়া বেঙ্গলিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে মধুমিতা বলেন, সিন্ধুর খেলা দেখে আমি খুশি। করোনা পরিস্থিতিতে খুব একটা খেলার সুযোগ পাননি সিন্ধু। অল ইংল্যান্ড-সহ হাতেগোনা কয়েকটা টুর্নামেন্টে খেলেছেন। ফলে আমি নিশ্চিত ছিলাম না তাঁর ফিটনেসের ব্যাপারে। কিন্তু প্রতিযোগিতা এগোতেই যেভাবে সিন্ধু নিজেকে মেলে ধরেছেন তাতে খুশি।

মুভমেন্ট উন্নত

মুভমেন্ট উন্নত

গ্রুপ জে-তে প্রথম দুটি ম্যাচের মধ্যে ২৫ জুলাই সিন্ধু হারান ইজরায়েলের সেনিয়া পলিকারপোভাকে। ২১-৭, ২১-১০ ফলে। এরপর ২৮ জুলাই সিঙ্গলসে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি হংকংয়ের চিউং নগান আইকে উড়িয়ে দেন ২১-৯, ২১-১৬ ব্যবধানে। মধুমিতা বলেন, প্রথম দিকের ম্যাচগুলি সিন্ধুর কাছে অনেক সহজ ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচেই বুঝতে পারি সিন্ধুর ফিটনেস খুব ভালো। ডেনমার্কের মিয়া ব্লিচফেল্টের বিরুদ্ধে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল ২১-১৫, ২১-১৩ ব্যবধানে সিন্ধু জেতেন। এই ম্যাচে দেখা যায়, সিন্ধুর মুভমেন্ট আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে দাপট

আজ কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের আকানে ইয়ামাগুচির দাপুটে জয় টিভিতেই দেখেছেন মধুমিতা। বললেন, ভালো লাগছিল যখন অলিম্পিক বা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে যেভাবে সিন্ধুর প্রশংসা করছিলেন। আজ প্রথম গেমে তো সিন্ধুকে বুঝতেই পারেননি ইয়ামাগুচি। সিন্ধুও নেটের কাছ অবধি গিয়ে খুব ভালো খেলেছন। সবচেয়ে বড় কথা, হাওয়ার পক্ষে যখন ইয়ামাগুচি খেলছিলেন তখন অনেক বাইরে মারেন। যেটা সিন্ধু মারেননি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত খেলা দেখে ভালো লেগেছে। অনেক বেশি ফোকাসড ছিলেন সিন্ধু। নড়াচড়া বা মুভমেন্ট খুব ভালো। স্ট্রোকেও অনেক উন্নতি করেছেন সিন্ধু, বড় র‌্যালিও অনেক সহজভাবেই খেলছেন। একটা র‌্যালির পর ইয়ামাগুচি অনেক পিছিয়ে থেকেও সিন্ধুকে যেভাবে ধরে ফেলেছিলেন এবং এগিয়ে গিয়েছিলেন, তারপরও ১৮-২০ থেকেও গেম পয়েন্ট সেভ করে সিন্ধু যেভাবে ম্যাচ জিতলেন তা প্রশংসার যোগ্য। এতেও প্রমাণিত সিন্ধুর নার্ভ কতটা শক্তিশালী!

উচ্চতার সুবিধা

উচ্চতার সুবিধা

পদ্মশ্রী মধুমিতা বিস্ত জানান, উচ্চতার একটা অ্যাডভান্টেজ সিন্ধু পেয়ে থাকেন। তবে খুব বেশি উচ্চতার বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। উচ্চতা বেশি হওয়ার পজিটিভ দিক যেমন স্ম্যাশ করতে পারা, তেমনই নেগেটিভ দিক হল অনেক সময় ঝুঁকতে সমস্যা হয়। কিন্তু সিন্ধুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ, বেশি উচ্চতার নেগেটিভ দিকটা সিন্ধুর খেলাকে প্রভাবিত করতে পারছে না। পায়ের নড়াচড়াও খুব মসৃণ। খুব কমই সিন্ধু শাটল মিস করেছে।

সেমিফাইনালের লড়াই

সেমিফাইনালের লড়াই

রিও অলিম্পিকের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে যাঁকে হারিয়েছিলেন সেই চেনা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছেন সিন্ধু। সিঙ্গলসে আটবার, ডাবলসে ৯ বার ও ১২বার মিক্সড ডাবলসে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মধুমিতা বিস্তের কথায়, তাই সু-ইং খুব বিপজ্জনক শাটলার। একই জায়গা থেকে ছয়রকম স্ট্রোক মারতে পারেন। যে স্টাইলে খেলেন বা তাঁর যে স্ট্রোকিং তা বিশ্বে আর কারও নেই। তবে সিন্ধুও তাঁকে আগের অলিম্পিক-সহ হারিয়েছেন। প্রতিপক্ষের খেলা সম্পর্কে জানেন। সহজ স্ট্রোকে অনেক সময় ভুল করেন তাই সু-ইং। কিন্তু বড় র‌্যালি হলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে অত্যন্ত পারদর্শী চাইনিজ তাইপের এই শাটলার। তাই সিন্ধুকে ধৈর্য্য ধরে খেলতে হবে।

সিন্ধু-গর্জন

সিন্ধু-গর্জন

১৯৮২ সালের অর্জুন এবং ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত মধুমিতা বিস্ত বলেন, রিও অলিম্পিক আর টোকিও অলিম্পিকের সিন্ধু এক নন। আগেরবার সিন্ধুর উপর প্রত্যাশার চাপ এতটা ছিল না। তখন সিন্ধু ছিলেন ডার্ক হর্স। কিন্তু রিওতে রুপোজয়ী, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সিন্ধুর দিকে এখন গোটা দেশ তাকিয়ে। সেই প্রত্যাশার চাপ আছে। তবে অনেক বেশি চাপ থাকবে দ্বিতীয় বাছাই তাই সু-ইংয়ের উপরই। বিশ্ব সার্কিটে তিনি যে জায়গায় নিজেকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন সেই নিরিখে। সিন্ধুর কাছে কিছু হারানোর নেই। তাই চাপমুক্ত হয়েই খেলতে হবে। সাইনা নেহওয়ালের সঙ্গে সিন্ধুর তুলনাতেও রাজি নন মধুমিতা। তিনি বলেন, সিন্ধু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসর বা বড় মঞ্চে অনেক বেশি পদক পেলেও এটাও মাথায় রাখতে হবে সাইনা নেহওয়ালের জন্যই মহিলাদের ব্যাডমিন্টনের প্রতি আলোকপাত হয়েছে অনেক বছর পর। সেই ঐতিহ্য আর উত্তরাধিকার বহন করে টোকিও থেকে সিন্ধু টানা নিজের দ্বিতীয় অলিম্পিক পদক আনুন, দেশবাসীর সকলের মতো এমন প্রত্যাশা করছেন মধুমিতাও।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+