Paris Olympics 2024: জোড়া পদক জিতে আবেগে-চোখের জলেই নিলেন বিদায়, শ্রীজেশকে অনন্য সম্মান জানালেন সতীর্থরা
ব্রোঞ্জ জিতেই ভারতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন গোলরক্ষক পিআর শ্রীজেশ। ভারতীয় হকিতে একটা বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। ২০০৬ সালে ভারতীয় সিনিয়র দলে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ছিলেন ভারতীয় দুর্গের শেষ প্রহরী। অবশেষে প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতে কেরিয়ারে ইতি টানলেন ৩৬ বছর বয়সী শ্রীজেশ।
আগেই ঘোষণা করেছিলেন প্যারিস অলিম্পিক্সই তাঁর কেরিয়ারের শেষ স্টেশন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছেন। ভারতীয় গোলের নীচে কার্যত দেওয়াল হয়ে উঠেছিলেন। প্রতিপক্ষ দলের একের পর এক পেনাল্টি কর্ণার ব্যর্থ করে দিয়েছেন। অবশেষে পদকের রঙ বদলাতে পারলেন না কিন্তু জোড়া পদকজয়ী হলেন শ্রীজেশ।

প্রথমে শ্রীজেশকে টার্ফের বাইরে ফেন্সের উপর বসানো হয়। এরপর ভারতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় তাঁদের হকি স্টিক উঁচিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। একজন চ্যাম্পিয়নের এর থেকে ভালো বিদায় কী আর হতে পারে। টোকিও-র পর প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার পর গোলপোস্টে উঠে বসেন শ্রীজেশ। ক্যামেরায় সেই সময় ফোকাসে ছিলেন তিনি।
শ্রীজেশ গোলপোস্টে উঠে বসার ঠিক পরেই ভারতীয় দল তাঁকে সম্মান জানাল। আর ভারতীয় টিমের সকলে তাঁকে অভিবাদন জানান। সেখানেই শেষ নয়। ভারতীয় হকি টিমের ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত সিং দলের গোলকিপার শ্রীজেশকে কাঁধে চড়িয়ে নেন। গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করানো হয় শ্রীজেশকে।
ম্যাচ শেষে শ্রীজেশ কিন্ত শুধু টিম ম্যান। নেই কোনও বাড়তি আমিত্ব। তাঁর কথায়, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার দলকে। আমার জন্য খুব ভালো একটা বিদায় হল। এটা আমার শেষ ম্যাচ সেইভাবে খেলেছি। এই ব্রোঞ্জ পদক জয়ের থেকে খুশির কিছু হতে পারে না। প্যারিস থেকে আমাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না। আমার টিমকে ধন্যবাদ জানাই।'
সিদ্ধান্ত বদলালে হয় না? প্রশ্ন শুনে এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন শ্রীজেশ। তারপর বললেন আমি মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান করি কিন্তু জীবনে কখনও না কখনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। আমিও নিয়েছি। এটাই অবসর নেওয়ার সঠিক সময়। টোকিওর পকদ জয় আমার হৃদয়ে থাকবে। ওটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়।
২০২১ সালে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পান শ্রীজেশ। ২০২১ এবং ২০২২ সালে এফআইএইচ গোলকিপার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কারও জেতেন তিনি। গত বছর এশিয়ান গেমসেও ভারতের সোনার পদক জেতায় মুখ্য অবদান ছিল শ্রীজেশের।












Click it and Unblock the Notifications