National Games 2025: গ্রামে ফিরতেই সোনার মেয়েকে রাজকীয় অভ্যর্থনা, পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে কী বললেন সাথী মণ্ডল?
ঘরের ফিরলেন সোনার মেয়ে সাথী মণ্ডল। জাতীয় গেমসে যোগাসনে একটি সোনা এবং একটি রুপোর পদক জিতে শুক্রবার নিজের বাড়ি ফিরলেন সাথী। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের পূর্ব সাতগেছিয়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে গ্রামে আসতেই সোনার মেয়েকে বরণ করে নেওয়া হল। স্থানীয় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের পক্ষ থেকে সাথী ফিরতেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হল।
ট্র্যাডিশনাল যোগাসনে সাথী জিতেছিলেন রুপো। রিদমিক পেয়ারে তিনি সর্বশ্রী মণ্ডলের সঙ্গে মিলে সোনা জেতেন। শুক্রবার নিজের গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন সোনার মেয়ে সাথী। এরপর নিজের স্কুল সাতগেছিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে যান পাশাপাশি সাতগেছিয়া হাইস্কুলেও যান। দুই স্কলেই সোনার মেয়েকে বরণ করে নেওয়া হয়।

ঘরে ফেরার পর ওয়ান ইন্ডিয়ার মুখোমুখি হয়ে সাথী নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানান, খুবই ভালো লাগছে আমি প্রথমবার জাতীয় গেমসে অংশগ্রহণ করলাম, একটি রূপো এবং একটি সোনার পদক জিতলাম। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আমার ম্যাডাম স্বপ্না পালকে এবং সৌমেন স্যারকে। তিনি ভিয়েতনামে থাকেন কিন্তু অন লাইনে ক্লাস করান।সেই সঙ্গে মা-বাবাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। কারণ আর্থিক সমস্যা তাঁরা আমাকে বুঝতেই দেননি। তাঁরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন।
প্রথম ইভেন্টে একটুর জন্য সোনা হাতহাড়া হয়, কিন্তু তার পরের ইভেন্টেই বদলে গেল পদকের রঙ, কীভাবে সম্ভব হল, এই প্রসঙ্গে সাথী বলেন, প্রথম ইভেন্টে রূপো পাওয়ায় একটু মন খারাপ হয়েছিল, ভেবেছিলাম আরও একটু ভালো করলেই সোনা পাওয়া যেত। এরপর স্যার-ম্যাডাম আমাকে বলেন, মন খারাপ করো না, এখনও একটা ইভেন্ট বাকি আছে সেটায় সেরাটা দাও। দেখবে ঠিক সোনা পাবে। অবশেষে সেটাই হল।
বাংলা দলে ট্র্যাকসুট নিয়ে বিতর্ক হয়। অন্য রাজ্যগুলি ট্র্যাকসুট পেলেও বাংলার ক্রীড়াবিদরদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়। এই নিয়ে সাথীর প্রতিক্রিয়া, কিছুটা খাপার লেগেছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বা পদক পাওয়ার পর মঞ্চে উঠার সময়গুলো খারাপ লাগে। আমার কাছে বাংলার একটা পুরানো ট্র্যাকসুট ছিল, তবে পদক জিতেছি। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে চাই না।
পরের লক্ষ্য সম্পর্কে সাথী বলেন, আমার পরের লক্ষ্য এশিয়ান গেমসষ ২০২৬ সালেই জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জাতীয় গেমস থেকেই এশিয়ান গেমসের জন্য দল নির্বাচিত হয়, এখন সেটাই আমার পরের লক্ষ্য। একইসঙ্গে সরকারি চারকির প্রসঙ্গে সাথী বলেন, খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। চাকরি পাব এটা একটা বিরাট ব্যাপার আমার জন্য।
সাথীর বাবা শ্যামল মণ্ডল পেশায় একজন টোটো চালক। সোনার মেয়ের মা রূপালি মণ্ডল একটি নার্সিংহোমে আয়ার কাজ করেন। ফলে অনেক আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেই যোগাসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সাথী। অভাব সংসারে থাকলেও তা কখনও খেলাধুলায় মেয়ের স্বপ্নের পথে অন্তরায় হয়নি। মেয়ের সাফল্যের দিনে বাবার মুখে শুধুই সাহায্যকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ওয়ান ইন্ডিয়ায় মুখোমুখি হয়ে সাথীর বাবা শ্যামল মণ্ডল বলেন, সবাই অনেক সাহায্য করেছেন স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি থেকে বিধায়ক, পঞ্চায়েত প্রধান। অনেকেই জাতীয় গেমসে খেলতে যাওয়ার আগে ওকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করেছেন। দেশের মধ্যে সোনা পেয়েছে এটা আমাদের খুবই ভালো লাগছে, সবাই ওকে নিয়ে আনন্দ করছে এটা আরও ভালো লাগছে। পদক জিতলে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আশা করি ওনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।
মা রূপালি মণ্ডল মেয়ের সঙ্গে উত্তরাখণ্ডে গিয়েছিলেন। ঘরে ফেরার পর তিনি বলেন, যখন ও রূপো পেল তখন আনন্দে চোখে জল চলে এল। আশা করছিলাম এবার একটা সোনা পাক, সেটাও পেয়েছে। এবার চাইছি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে একটা পদক নিয়ে আসুক। কোচের অনুমতি নিয়ে কঠিন ডায়েট আপাতত কয়েকদিন বন্ধ রেখে মেয়েকে পছন্দের বিরিয়ানি বা চাউমিন খাওয়াতে চান মা। শুক্রবারই পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।












Click it and Unblock the Notifications