ভিনেশের দুর্ভাগ্যে দায়ী সাপোর্ট স্টাফরা, চানুর সাফাই হাস্যকর! ঠোঁটকাটা হরমনপ্রীতদের ভগবান 'অলিম্পিক্স ডক্টর'
Dr. Manit Arora: প্যারিস অলিম্পিক্সে ভারত এবার ৬টি পদক পেয়েছে। টোকিওর পর এবারও অলিম্পিক্সের হকিতে ভারত ব্রোঞ্জ জিতেছে। আর তাতে অবদান রয়েছে স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞর।
অ্যান্টিরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের বিষয়ে এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসক ডা. মনিত অরোরা। তিনিই পুরোপুরি ফিট করে তুলেছেন ভারতীয় হকি দলের কয়েকজন প্লেয়ারকে। অনেক ক্রীড়াবিদই তাঁর চিকিৎসায় উপকৃত।

এই চিকিৎসককে অনেকেই অলিম্পিক্স ডক্টর বলে অভিহিত করেন। এবারের অলিম্পিক্সে ভারতকে হকিতে সাফল্য এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা নেন হরমনপ্রীত সিং ও গুরজন্ত সিং। তাঁরা দুজনেই এই চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন তাঁদের সারিয়ে তুলে ফিট হয়ে মাঠে ফেরানোর জন্য।
ওয়ানইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনিত বলেন, এই দুজনেরই অস্ত্রোপচার আমি করেছিলাম। তবে তাঁদের খেলা দেখতে বসলে আমার ভয়ই হয়। সব সময়ই চোখ চলে যায় হরমনপ্রীতের হাঁটুর দিকে। ফলে ভারতীয় হকি দলের হয়ে তাঁদের সাফল্য দেখলে যেমন ভালো লাগে, তেমনই পুরানো কথা মনে পড়ায় খেলা উপভোগ করা হয়ে ওঠে না।
টোকিও অলিম্পিক্সের মাস ছয়েক আগে হরমনপ্রীত ডা. অরোরার কাছে গিয়েছিলেন এসিএল ও হাঁটুর মেনিস্কাস ইনজুরি নিয়ে। ডা. অরোরা বলেন, হরমনপ্রীত আমাকে বলেছিলেন এই অলিম্পিক্স খেলতে না পারলে হয়তো আর অলিম্পিক্সেই খেলতে পারব না।
লিগামেন্ট সার্জারির পর সেরে উঠতে ৮-৯ মাস লাগে। ফলে ৬ মাসের মধ্যে ফিট হওয়ার কাজ ছিল দুঃসাধ্য। তবে ডা. অরোরা হরমনপ্রীতকে সার্জারির পরামর্শ দেন, বাকিটা ছেড়ে দিতে বলেছিলেন তাঁর উপরেই। অস্ত্রোপচারের চার মাসের মধ্যে জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দিতে পেরেছিলেন হরমনপ্রীত। টোকিও অলিম্পিক্সে খেলেন, দলকে ব্রোঞ্জ জেতাতে বড় ভূমিকা নেন। পান অনেক পুরস্কার।
ডা. অরোরার লক্ষ্য শুধু ক্রীড়াবিদকে মাঠে ফেরানোই নয়, চোটের আগে তাঁদের পারফরম্যান্স যেমন ছিল সেই অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া। ৭০-৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয়। তবে বাকিদের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স গ্রাফ পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিকও নয়। পেশেন্ট এডুকেশনকেও তিনি গুরুত্ব দেন।
ক্রীড়াবিদরা এসে বলেন তাঁরা সামনের কোন টুর্নামেন্ট খেলতে চান। যদিও ডা. অরোরা চোট পরীক্ষা করে দেখেন কী করণীয়, কী করলে কেরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হবে তা বুঝিয়ে বলেন ক্রীড়াবিদদের। পারস্পরিক আস্থা বজায় রেখে পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেরে ওঠা সম্ভব, দাবি ডা. অরোরার।
ডা. অরোরা এমনভাবে সকলের চিকিৎসা করেন যাতে ভবিষ্যতে চোট সমস্যায় না পড়তে হয় কাউকে। নানাবিধ পরীক্ষা করে তিনি বুঝে নেন, ঠিক কোন সময় সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদ মাঠে ফিরতে পারবেন। ডা. অরোরা মনে করেন, এখন খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ভারতের মতো ১৪০ কোটি দেশ অলিম্পিক্স থেকে ৬টি নয়, আরও বেশি পদক জিততে পারে।
এসিএল ইনজুরি তিন রকমের হয় বলে জানালেন ডা. অরোরা। গ্রেড ওয়ান স্ট্রেচ, গ্রেড টু পার্শিয়াল টিয়ার ও গ্রেড থ্রি কমপ্লিট টিয়ার। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে গ্রেড ওয়ান সারানো যায়। গ্রেড টু-র রয়েছে লো ও হাই গ্রেড টিয়ার। কনসারভেটিভ ট্রিটমেন্ট বা অপারেশন না করেই লো গ্রেড পার্শিয়াল টিয়ার ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সারানে যায়। রিহ্যাব, ফিজিওথেরাপি-সহ কিছু মাধ্যমেই ফিট করা সম্ভব। হাই গ্রেড টিয়ারে অপারেশন জরুরি হয়।
ভিনেশ ফোগাটের ফাইনালে নামতে না পারাকে চূড়ান্ত অব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন ডা. অরোরা। তিনি বলেন, প্যারিস অলিম্পিক্সে দু-বার ওজন পরিমাপের বন্দোবস্ত ছিল। কিন্তু ভিনেশ ছাড়া আর কেউ ছিটকে যাননি ওজন বেশি হওয়ায়। যদি দু-তিনশো কুস্তিগীর তাঁদের ওজন সঠিক রাখতে পারেন, তাহলে ভিনেশ পারলেন না কেন?
আর এখানেই সাপোর্ট স্টাফদের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন ডা. অরোরা। তিনি বলেন, ভিনেশ ক্রীড়াবিদ। নিজের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সাপোর্ট স্টাফদেরই উচিত ছিল, ওজনের দিকে নজর রাখা এবং তা সঠিক রাখতে কী করণীয় তা ঠিক রাখা। ভিনেশকে যা খাওয়ানো হয়েছে তা যাতে ওজন বাড়ানোর সমস্যা তৈরি না করে, সব কিছুতে ভারসাম্য থাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকা।
ভিনেশের তুল কেটে ওজন কমানোর চেষ্টাকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করে ডা. অরোরা বলেন, এমনভাবে চললে তো টুর্নামেন্টের শেষে ক্রীড়াবিদকে ন্যাড়া হয়ে ফিরতে হবে। দেশের মানুষের করের টাকাতেই সাপোর্ট স্টাফদের বেতন হয়। ফলে সদুত্তর আমরা চাইতেই পারি। সাপোর্ট স্টাফ ভালো নয়, তাই পদক আসছে না, এই যুক্তি মানতে নারাজ।
মীরাবাঈ চানু ব্যর্থতার পর বলেছিলেন, পিরিয়ডের কারণে তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে। পিরিয়ডের চ্যালেঞ্জ মানলেও তা পারফরম্যান্স খারাপ করতে পারে, এমন সাফাই মানতে নারাজ ডা. অরোরা। তিনি বলেন, কখনও এমন কথা সেরেনা উইলিয়ামস বা অন্যদের মুখে শোনা যায়নি। এই সব বিষয় থেকেই ভালো ও খারাপ প্লেয়ারের মধ্যে ফারাক লক্ষ্য করা যায়। অলিম্পিক্স-সহ সমস্ত টুর্নামেন্টে ভালো মানের সাপোর্ট স্টাফ রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন ডা. অরোরা।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications