বেজিং শীতকালীন অলিম্পিকে লক্ষ্য স্থির কাশ্মীরের আরিফ খানের! ভারতীয় শিবিরে করোনার থাবাও
বেজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক শুরু শুক্রবার থেকে। চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভারত থেকে এই অলিম্পিকে যোগ দেবেন মাত্র একজন অ্যাথলিট। কাশ্মীরের স্কিয়ার আরিফ খান স্লালোম ও জায়ান্ট স্লালোমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আরিফ-সহ ভারত থেকে বেজিং গিয়েছেন ৬ জন। কিন্তু বেজিং পৌঁছানোর পরেই ভারতীয় শিবিরে করোনার থাবা।

(ছবি- আরিফ খান ইনস্টাগ্রাম)
বেজিং বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে শীতকালীন অলিম্পিকে ভারতের কন্টিনজেন্টের ম্যানেজার মহম্মদ আব্বাস ওয়ানির। আরিফ ও ওয়ানি ছাড়া ভারতীয় প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা হলেন শেফ দ্য মিশন হরজিন্দর সিং, আলপাইন কোচ লুদার চাঁদ ঠাকুর, টেকনিশিয়ান পুরান চাঁদ ও টিম অফিসিয়াল রূপচাঁদ নেগি। ওয়ানি ছাড়া সকলের রিপোর্টই নেগেটিভ।
ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নরিন্দর বাত্রা জানিয়েছেন, ওয়ানির দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন শেফ দ্য মিশন। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে আরিফ ও তাঁর কোচকে আলাদা ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এড়াতেও এই পদক্ষেপ।
আরিফের পদক জিতে ফেরার সম্ভাবনা বিশেষ নেই। কাশ্মীরের এই স্কিয়ার শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিয়ে কাশ্মীরের যুবসমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার অবসান ঘটাতে চাইছেন। তাঁর কথায়, ২০১০ সালে শাহ ফয়সল ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে কাশ্মীরের তরুণ-যুবদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। একইভাবে আমিও কাশ্মীরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার মতো কিছু করতে চেয়েছি, যা তাঁদের জীবনযাত্রায় বদল আনতে পারে। শীতকালীন অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন থেকে শুরু করে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গত বছরের বেশিরভাগ সময়টাই ইউরোপে কাটিয়েছেন আরিফ। সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফিরে আবার বেজিং রওনা হয়ে যান। কাশ্মীরের তরুণ-যুবদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, যদি আমি পারি, তোমরাও পারবে।
২০১৮ সালে পিওংচ্যাং শীতকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের জন্য সুইৎজারল্যান্ডে একটি ইভেন্টে নামতে হতো আরিফকে। মাত্র দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ অবধি কাশ্মীরে পর্যটন ব্যবসা মার খেয়েছিল। অনুশীলন ও বিদেশ সফরের জন্য আরিফের পরিবার প্রয়োজনীয় অর্থ সঞ্চয় করতে পারেনি। গুলমার্গে আরিফের পরিবারের পর্যটন ব্যবসা রয়েছে, সেই আয়ের একটা অংশ থেকেই আরিফের অনুশীলন ও বিদেশে যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়। উইন্টার গেমস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও কর্পোরেট সেক্টর থেকেও কাঙ্ক্ষিত সাহায্য মেলেনি। সবমিলিয়ে অলিম্পিকে নামার স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল। যা এবার পূরণ হতে চলেছে। কাশ্মীর মানেই ইট-পাথর ছোড়ার প্রতিবাদ, এই ইমেজ ভাঙাও লক্ষ্য আরিফের। তিনি নামবেন ১৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে। বেজিং যাওয়ার আগে ১৯৩টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা দেওয়া আরিফ চান প্রথম তিরিশে থাকতে।












Click it and Unblock the Notifications