টোকিওতে পদকের লক্ষ্যে অভিনব অনুশীলনে বিশ্বের এক নম্বর তিরন্দাজ দীপিকা কুমারী
আগের দুটি অলিম্পিকে ব্যর্থতার কথা মাথায় না রেখে কেরিয়ারের তৃতীয় অলিম্পিকে নামতে চলেছেন দীপিকা কুমারী। রাঁচির দীপিকার সঙ্গে এখন কলকাতা-যোগও রয়েছে। বাংলার তিরন্দাজ অতনু দাসও টোকিও অলিম্পিকে নামবেন এবং তাঁরই স্ত্রী দীপিকা। বিশ্বের এক নম্বর তিরন্দাজ হিসেবেই দীপিকা টোকিও অলিম্পিকে পদকের লক্ষ্যভেদের অপেক্ষায়।

তৃতীয় অলিম্পিক
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকেও বিশ্বের এক নম্বর তিরন্দাজ হিসেবে নেমেছিলেন। তবে সকলকে হতাশ করে বিদায় নেন প্রথম রাউন্ডেই। রিও অলিম্পিকে তিনি শেষ ১৬ অবধি পৌঁছান ব্যক্তিগত বিভাগে এবং দলগত বিভাগে রাশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজয়ের পর তাঁর অলিম্পিক অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছিল। যদিও টোকিও অলিম্পিকে তাঁকে ঘিরে পদকের আশা বেড়েছে চলতি বছর বিশ্বকাপে তাঁর সোনালি সাফল্য দেখে।

নেগেটিভ ভাবনা দূরে
প্রত্যয়ী দীপিকা কুমারী বলেছেন, আগের দুটি অলিম্পিকে যা হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি এবার আর চাই না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যর্থতাগুলির কথা কখনও কখনও মাথায় চলে আসে, মানসিক চাপও তৈরি করে। ফলে ওইসব নেগেটিভ চিন্তাভাবনাকে দূরে রেখে নিজের সেরাটা দেওয়াই আমার লক্ষ্য। এর ফলে চাপও কম থাকবে। আমি নিজের খেলাতেই বেশি মনোনিবেশ করছি। চলতি বছর বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত দুটি সোনা জিতে বিশ্বের এক নম্বর জায়গা দখল করে অলিম্পিকে যাচ্ছেন দীপিকা। তাঁর কথায়, যত অলিম্পিক এগিয়ে আসছে ততই চাপ বাড়তে থাকে। ফলে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে সব পরিকল্পনা ওলট-পালট না হয়ে যায়।

অতনুর সহযোগিতা
স্বামী অতনুর সঙ্গে দীপিকার মিক্সড ডাবলস জুটির উপরও পদক জয়ের প্রত্যাশা রয়েছে। দীপিকা বলেন, শুধু অনুশীলন না করে মানসিকভাবে এবং টেকনিক্যালি সবকিছু নিখুঁত রাখতে ব্যক্তিগত ও দলগত খেলাতেই বেশি জোর দিয়েছি টোকিও যাওয়ার আগে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে দীপিকা একাই নামবেন। মহিলা তিরন্দাজদের দল এবার অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এই প্রথম ভারতের কোনও স্বামী-স্ত্রী তিরন্দাজিতে অলিম্পিকে একই ইভেন্টে নামবেন। দীপিকার কথায়, অতনু এখন কোচ কাম মেন্টরের ভূমিকাই পালন করছেন। ফুল টাইম কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দীপিকাকে নানাভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি গাইড করছেন, মোটিভেট করছেন। দীপিকা বলেন, আমাদের কোচ মিম বাহাদুর গুরুং রয়েছেন, তবে অতনু ধারাবাহিকভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে দীপিকা নিজে চাইছেন নিজের খেলাকে আরও উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে।

অভিনব অনুশীলন
পুনেতে শুধু অতনু নয়, টোকিওগামী ভারতের অন্য তিরন্দাজদের সঙ্গেও রীতিমতো প্রতিযোগিতার মেজাজে অনুশীলন করছেন এবং তাঁদের পারফরম্যান্সকে ছাপিয়েও যাচ্ছেন। আর সেটাই বাড়াচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর মহিলা তিরন্দাজের আত্মবিশ্বাস। দীপিকা বলেন, যেহেতু অলিম্পিকের শিবিরে আমি একাই একমাত্র মহিলা তিরন্দাজ তাই বাকিদের সঙ্গে নক আউট ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরুষদের দলের বিরুদ্ধেই খেলছি। শেষ মুহূর্তে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে না। তাই ম্যাচ প্র্যাকটিসকেই সেরা প্র্যাকটিস ধরে নিজের নিশানা আর লক্ষ্যভেদের কৌশলকে আরও নিখুঁত করে নিতে চাইছেন দীপিকা।












Click it and Unblock the Notifications