D Gukesh: জীবনের সেরা দিন! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশের প্রথম প্রতিক্রিয়া, কোন পথে উত্তরণে ঐতিহাসিক সাফল্য?
D Gukesh: দোম্মারাজু গুকেশ গর্বিত করলেন ভারতকে। চেস অলিম্পিয়াডে দুরন্ত সাফল্যের কয়েক মাস পর তিনি আজ থেকে বিশ্বচ্যাম্পিন।
তামিলনাড়ু তথা ভারত থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয় কোনও গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্ব দাবার খেতাব জিতলেন। গ্যারি কাসপারভের রেকর্ড ভেঙে দাবায় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি গুকেশের মুঠোয়।

গুকেশের জন্ম চেন্নাইয়ের তেলুগু পরিবারে। ২০০৬ সালের ২৯ মে। তাঁর বাবা ডা. রজনীকান্ত চোখ-কান-গলার শল্য চিকিৎসক। মা ডা. পদ্মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট। সাত বছর বয়স থেকে দাবা খেলা শেখা শুরু গুকেশের। ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
গুকেশের যখন ১১ বছর বয়স তখন তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দাবায় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চান। আজ চতুর্দশ ক্ল্যাসিক্যাল গেমে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেছিলেন, কালো ঘুঁটি নিয়ে খেলতে নামা গুকেশের পক্ষে খেতাব জেতা কঠিন।
যদিও চিনের গ্র্যান্ডমাস্টার ডিং লিরেনের ভুল ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলা গেমকে নিয়ে যায় গুকেশের পক্ষে। চেন্নাইয়ের আয়নামবক্কমের ভেলাম্মল বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন গুকেশ। ২০১৩ সালে তিনি দাবা খেলা ও প্র্যাকটিস চালাতে থাকেন সপ্তাহে তিন দিন এক ঘণ্টা করে। উইকেন্ডে খেলতেন বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। সেখানেই প্রথম নজর কাড়তে থাকেন।
২০১৫ সালে গুকেশ অনূর্ধ্ব নয় বিভাগে এশিয়ান স্কুল চেস চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জেতেন। অনূর্ধ্ব ১২ বিভাগে তিনি জেতেন বিশ্ব যুব দাবা প্রতিযোগিতা। ২০১৮ সালে তিনি এশিয়ান যুব দাবায় জেতেন পাঁচটি সোনা। অনূর্ধ্ব ১২ ব্যক্তিগত র্যাপিড ও ব্লিৎজ, অনূর্ধ্ব ১২ দলগত র্যাপিড ও ব্লিৎজ এবং অনূর্ধ্ব ১২ ব্যক্তিগত ক্ল্যাসিক্যাল ফরম্যাটে।
এরই মধ্যে ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার হওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেন ৩৪তম ক্যাপেল-লা-গ্রান্ডে ওপেনে। ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি গুকেশ ১২ বছর ৭ মাস ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হন। পরে গুকেশের নজির ভেঙেছেন অভিমন্যু মিশ্র।
২০২১ সালে জুলিয়াস বেয়ার চ্যালেঞ্জার্স চেস ট্যুর খেতাব জেতেন। ২০২২ সালে চেস অলিম্পিয়াডে ব্যক্তিগত সোনা জেতেন। তাঁর পারফরম্যান্সে টিম ইন্ডিয়া-২ তৃতীয় হয়েছিল। মার্কিন ১ নম্বর ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে তিনি অষ্টম ম্যাচে হারান।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ২৭০০-র উপর রেটিং নিয়ে যেতে সক্ষম হন গুকেশ। তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে। ২০২২ সালে গুকেশ সবচেয়ে কম বয়সের দাবাড়ু হিসেবে হারিয়েছিলেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে। যিনি পরবর্তীতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন।
গুকেশ ২০২৩ সালের অগাস্টে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ২৭৫০ রেটিংয়ের মাইলস্টোন স্পর্শ করেন। চেস ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হারেন কার্লসেনের কাছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আনন্দকে টপকে র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয়দের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেন। ৩৭ বছর পর সিংহাসন হারান আনন্দ।
২০২৩ সালে ফিডে সার্কিটের শেষে গুকেশ ২০২৪ সালের ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্ট খেলার ছাড়পত্র পান। ববি ফিশার ও কার্লসেনের পর তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে।
২০২৪ সালের ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে গুকেশ পাঁচটি গেম জেতেন, একটি ড্র। তিনি এই টুর্নামেন্ট জেতার ফলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ডিং লিরেনের বিরুদ্ধে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরে চেস অলিম্পিয়াডে ভারত ঐতিহাসিক সাফল্য পায়। ১০ রাউন্ডে ৯ পয়েন্ট পেয়েছিলেন গুকেশ প্রথম বোর্ডে। টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স রেটিং ছিল সর্বাধিক। ব্যক্তিগত সোনার পাশাপাশি দলগতভাবেও সোনা জেতেন গুকেশ।
গত ১ অক্টোবর গুকেশ ফিডে রেটিংয়ে প্রথম পাঁচে চলে আসেন প্রথমবার। আজ ডিং লিকেনকে ৭.৫-৬.৫ ব্যবধানে হারিয়ে তিনি অষ্টাদশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন। ২০২৩ সালে এশিয়ান চেস ফেডারেশনের বিচারে তিনি বর্ষসেরা প্লেয়ারের পুরস্কার পান।












Click it and Unblock the Notifications