কাঁসাই নদীর স্রোতে তলিয়ে গেল বাঁশের সেতু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাঁশকুড়া ডোমঘাট
অভিশপ্ত কাঁসাই নদী। একমাত্র বাঁশের সেতু গ্রাস করে নিয়েছে রাক্ষুসে কাঁসাইয়ের স্রোত। প্রায় ১২০০ পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকার নয়, নিজেদের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ১৫০ ফুট বাঁশের সেতু ভেঙে চুড়ে নিয়ে গেল কাঁসাইএর জলস্রোত। এই সেতুই ছিল গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসা।
সরকারের প্রতি আক্ষেপ বুকে নিয়ে ১২০০ পরিবার একত্রিত হয়ে কাঁসাই নদীর ওপর নিজেদের পরিশ্রমেই বানিয়ে ছিলেন ১৫০ ফুট বাঁসের সেতু। নিজেরা এই সেতু বানিয়ে নদীর দুই পারের মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠেছিলেন। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, এমনকি দৈনন্দিন জীবন জীবিকা অর্জনের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল দীর্ঘ লম্বা এই বাঁশের সেতু।

অনেকেই বলছেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরেই এই ভাবে বাঁশের সেতু র্নিমান করে তার উপর দিয়ে চলছে দৈনন্দিন জীবনযাপন । কিন্তু প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীর দুই পড়ের মানুষকে হতাশাগ্রস্ত করে কাঁসাই নদীর জলস্রোত। কারন বর্ষা এলেই কাঁসাই নদী তলিয়ে নিয়ে যায় সাধারনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা এই বাঁশের সাঁকোটিকে। বিগত কয়েক দশক ধরেই ভুক্তভোগী পাঁশকুড়া ডোমঘাটের কাঁসাই নদী সংলগ্ন দুই পাড়ের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। এ যেন তাদের কাছে কাঁসাই নদীর এক অভিশাপ।
পাকা পুলের দাবি থাকলেও সে দাবি পূরণের কোন জায়গাই রাখেনি বর্তমান ও অতীতের সরকার। তাই নিজেদের পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাঁশের সাঁকোই তাদের কাছে শেষ সম্বল। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও সেই সম্বল টুকু কেড়ে নিল কাঁসাই নদীর জলস্রোত। প্রবল জলস্রোত ভেঙে গুড়িয়ে দিল ১৫০ ফুট বাঁশের সেতু।
দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুই প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ। পাকাপুল তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি ভরসা নেই তাদের। তাই বিছিন্নতাকে কাঁসাই নদীর অভিশাপ ভেবে বর্ষা কাঁটানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় পাঁশকুড়া ডোম ঘাস সংলগ্ন কাঁসাই নদীর দুই প্রান্তের মানুষজন। উন্নয়নের জোয়ারে উন্নয়ন কোথায় পাঁশকুড়ার ডোমঘাটে? বিগত ৩০ বছরের এই জল যন্ত্রণা কাটাতে সরকার কি কোন পদক্ষেপ নেবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications