Medinipur Saline Case: বিষাক্ত স্যালাইনের সঙ্গেই প্রসূতিদের মাত্রাতিরিক্ত অক্সিটোসিন! বিস্ফোরক তদন্ত রিপোর্ট
Medinipur Saline Case: মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর (Pregnant Woman Death) ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাড়ে পাঁচ পাতার বিস্ফোরক রিপোর্ট জমা পড়ল স্বাস্থ্য ভবনে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রসবের সময় মাত্রাতিরিক্ত অক্সিটোসিনের (oxytocin) প্রয়োগের জেরে প্রসূতিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনে গলদ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
এর আগে স্বাস্থ্যভবনের (Health Department) গড়া ১৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছিল, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের কারণেই মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিন প্রসূতির অবস্থাও সেকারণেই আশঙ্কাজনক। তবে এদিন ফাইনাল রিপোর্টে জানানো হল, একা স্যালাইন নয়, দোসর অক্সিটোসিনও। যার অতিরিক্ত ব্যবহারের জেরেই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কম করতে অক্সিটোসিন দেওয়া হয়। চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিয়ম না মেনে অক্সিটোসিনের মাত্রাতিরিক্ত (High Dosage) ব্যবহার করা হয়। ৫ জন প্রসূতিকে অক্সিটোসিনের হাই ডোসেজ দেওয়া হয়।
নির্ধারিত ১০ ইউনিটের বদলে সবাইকে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ইউনিট অক্সিটোসিন দেওয়া হয়েছিল। স্রেফ তাই নয়, রিপোর্টে বলা হয়েছে সকল প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তপাত হয়নি। একজনের তা হচ্ছে বলে টিকিটে উল্লেখ ছিল। তবু বাকি প্রসূতিদের বেশি মাত্রায় অক্সিটোসিন দেওয়া হয়েছে।
ওই অক্সিটোসিনের বেশি প্রয়োগের ফলেই হু হু করে রক্তচাপ কমে যায় প্রসূতিদের। বিষাক্ত স্যালাইনের পাশাপাশি বিপদ বাড়িয়ে তোলে অক্সিটোসিন। যার জেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই প্রসূতি। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক একই কারণে।
বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে আইটিইউ-তে রয়েছেন নাসরিন খাতুন। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি মাম্পি সিংহ ও মিনারা বিবি। ৩ প্রসূতিকে রবিবার রাতে গ্রিন করিডর করে মেদিনীপুর থেকে নিয়ে আসা হয় পিজি হাসপাতালে। শেষ খবর অনুযায়ী, তিনজনেরই অবস্থা সংকটজনক।
সাড়ে পাঁচ পাতার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন একজন সিনিয়র আরএমও। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওটিতে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন না আরএমও। পিজিটি-দের দিয়ে অপারেশন করানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই সিনিয়র চিকিৎসক কোথায় ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যালে তদন্তে পৌঁছেছে সিআইডির টিম। রিঙ্গার ল্যাকটেটের ব্যবহার আপাতত নিষিদ্ধ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। স্যালাইনের গুনগত মান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এনআরএস, এসএসকেএমের পর মঙ্গলবার কলকাতা মেডিক্যালেও সরানো হচ্ছে বিষাক্ত রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন। কিন্তু নির্দেশ দিতে এত কেন সময় লাগল সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications