যেখানে বিধায়িকা সুরক্ষিত নয় সেখানে মহিলাদের অবস্থা কী? 'আক্রান্ত' হতেই প্রশ্ন সুমিতা সিনহার
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব বিজেপি। ভোটের সমস্ত প্রক্রিয়া মিটে গেলেও এখনও নেতা-কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির। রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও নিরাপত্তাই দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় ফের একবার আক্রান্ত হলে
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব বিজেপি। ভোটের সমস্ত প্রক্রিয়া মিটে গেলেও এখনও নেতা-কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির। রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও নিরাপত্তাই দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় ফের একবার আক্রান্ত হলেন বিজেপি বিধায়ক।

মানুষের দুর্দশার সমাধান করতে গিয়ে কার্যত আক্রান্ত হতে হলেন উত্তর কাথি বিধানসভার বিধায়ক সুমিতা সিনহা। কোনও রকমে প্রাণ হাতে নিয়ে তাঁকে ফিরতে হয় বলে দাবি তাঁর।
এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই বিধায়ক। তবে সুস্থ রয়েছে বলেই ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে জানিয়েছেন সুমিতা দেবী।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে সুমিতাদেবী জানিয়েছেন, দেশপ্রাণব্লকের ডিহিমুকুন্দ গ্রামে মানুষের অবস্থার কথা শুনতে গিয়েছিলাম। ৮২ নম্বর বুথ।
উল্লেখ্য ইয়াসের তান্ডবের পর ওই এলাকাতে কার্যত বেহাল অবস্থা। রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। এখনও বেশ কিছু জায়গাতে জল জমে আছে। আর সেই খবর শোনার পরেই ঘটনাস্থলে সরজমিনে পৌঁছে যান বিধায়ক। মানুষের অবস্থা সমাধানের চেষ্টা করেন। সবাই মিলে বসে আলোচনা চলাকালীন হঠাত করেই একটি ছেলে তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের।
কেন তিনি ইয়াসের এত দিন পর এলেন তা নিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিধায়কের কোনও বক্তব্য সে শুনতে চায়নি বলে অভিযোগ সুমিতা দেবীর। তিনি জানান, তাঁকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে আমি এসেছিলাম। কিন্তু জলের কারণে ঢোকা যায়নি।
কিন্তু সে ক্রমশ চিৎকার করতে থাকে বলে অভিযোগ। এমনকি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে জড়ো হয়ে যায়। আর সেই সময় চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই বেশ কয়েকজন যুবক তাঁর দিকে চলে আসে বলে দাবি বিধায়কের। কোনও রকমে তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী বিষয়টিকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু লাগাতার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিভিন্নভাবে অশান্তির পাকানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ সুমিতা দেবীর। ওয়াণ ইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা ইচ্ছাকৃত ভাবে করানো হয়েছে। তৃণমূল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী সহ গোটা অধিকারী পরিবারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবে গালিগালাজও করতে থাকে ওরা। এমনকি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার দীর্ঘক্ষন পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণে আসে গোটা পরিস্থিতি।
কার্যত পুলিশের নিরাপত্তাতেই কোনও ভাবে এলাকা ছাড়তে পারেন ওই বিধায়িকা। আর এখানেই তাঁর প্রশ্ন, এত অসভ্য রাজনীতি? একজন বিধায়িকার উপর হামলা হচ্ছে যেখানে সেখানে মহিলারা কি সুরক্ষিত? প্রশ্ন সুমিতা সিনহার।
ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে ঘটনার উল্লেখ করে একাধিক ব্যক্তির নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি পুলিশের তরফে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।
অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপির বিধায়কের সমস্ত দাবি অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই।












Click it and Unblock the Notifications